অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে গণভোটের প্রশ্নে তার (ইউনূস) রুলিং দাবি করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, ‘গণভোট নভেম্বর মাসে হবে, নাকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে?’
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এ দাবি করেন তিনি।
গণভোট নিয়ে বিভিন্ন দলের অনঢ় অবস্থানের প্রেক্ষিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টার রুলিং দাবি করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জরুরি সভা সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং ৩২টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এবি পার্টির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক সভায় অংশ নেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আকস্মিকভাবে এই সভা আহ্বান করায় আমরা কিছুটা বিচলিত হয়েছিলাম। প্রধান উপদেষ্টার ক্লান্ত মুখাবয়ব দেখে আরও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। তবে পরক্ষণে তার স্বভাবসুলভ হাসি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হলের ভেতরে সবাই খুব সংহতি ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা করেন, কিন্তু বাইরে মিডিয়ার সামনে যখন কথা বলেন, তখন মনে হয় যেন আমাদের মধ্যে অনেক বিভেদ।’
প্রধান উপদেষ্টাকে ভেতরে–বাইরে ভারসাম্য বজায় রাখার অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে কখনো এক দল চাপ দেয়, কখনো অন্য দল চাপ দেয়, ফলে মনে হয় তিনি একবার এক পক্ষের কথা শুনছেন।’
মঞ্জু আরও বলেন, ‘সকল পক্ষের কথা শেষ এবং এখনো কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, তাই শেষ সিদ্ধান্তটি জনগণের পক্ষ থেকে আপনি জানিয়ে দিন। আশা করি, সবাই মেনে নেবে।’
জুলাই মাসের জাতীয় সনদকে আগামী দিনের রাজনীতির গতি নির্ধারণকারী সনদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সনদের কিছু অংশে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, আশা করি তারা শেষ পর্যায়ে এসে কিছুটা নমনীয় হবেন।’


