আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে; যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।’
রোববার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন আলী রীয়াজ। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেলেও বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। সেই ঝুঁকি দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন—‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আপনি, আমি—আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পথ খুলে দেবে।’
এ জাতি আর কোনো গুম, খুন, গায়েবি মামলা কিংবা ভয়ভীতি নির্ভর শাসন চায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, এ জাতি এমন একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
যে দিনের স্বপ্ন মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এই অভ্যুত্থান দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এরই মধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলেও আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। সে কারণেই সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি নিতে হবে।
একই সঙ্গে বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের সেই পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যা সংবিধানের দুর্বলতার কারণে অতীতে তৈরি হয়েছিল।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লর ভিসি অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সায়েম উদ্দিন আহম্মদ।


