বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল ও ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিলসহ ৭ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
সোমবার জাতীয় সংসদে বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এর মধ্যে ছয়টি বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়। আরেকটি বিলের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ রহিত করা হয়।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিলগুলো সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল আলাদাভাবে সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করতে এ বিলগুলো আনা হয়। এটা নিয়ে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত বিল তুলতে গেলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান।
আইনমন্ত্রী জানান, এ বিলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল। তিনি এখন সংসদে বিলগুলো শুধু উত্থাপন করছেন। পরবর্তীতে যেন বিলগুলো বিতর্কের জন্য রাখা হয়, সে অনুরোধ করেন তিনি।
এর আগে, তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ বন্ধ করা যাবে না—এটি বাদ দিয়ে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল–২০২৬ জাতীয় সংসদে তুলেন আইনমন্ত্রী। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ করেছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।
অধ্যাদেশের ওই ধারায় আছে, তিন বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তামাক চাষ করা যাইবে না এবং এক ও দুই ফসলি কৃষিভূমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করিতে হইবে। উত্থাপিত বিলে এই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকী ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
যেসব বিল পাস
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন পৃথকভাবে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ বিল, বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাসের জন্য উত্থাপন করেন। কোনো সংশোধনী না থাকায় বিলগুলো দফাওয়ারি সরাসরি ভোটে দেন স্পিকার। কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়।
সংসদে পাস হওয়া বিলগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল যেন অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবে অনুমোদন করা হয়। সংসদে উত্থাপিত আকারেই বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। বিলগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনাও হয়নি। বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য তোলার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীল সাইফুল আলম খান বলেন, তিন দিন আগে বিলের কপি সংসদ সদস্যদের দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তারা একটু আগে ৪৯ পৃষ্ঠার একটা ডকুমেন্ট পেয়েছেন। তাহলে তারা কীভাবে কথা বলবেন।
জবাবে স্পিকার বলেন, কারপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে দেওয়ার কথা সেটা ঠিক আছে। আবার স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাও আছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করতে হবে। কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে মঙ্গলবার থেকে সকাল বিকাল দুবেলা অধিবেশন বসবে। প্রয়োজনে শুক্রবারও বৈঠক বসবে। সময় স্বল্পতার কারণে সবগুলো বিলের আগে কপি দেওয়া যায়নি। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে সবাই একমত হয়েছিল সেগুলো এখন পাস হয়ে যাক। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট আছে বা সংশোধনী আছে সেগুলো আলাদাভাবে ৯ এপ্রিলের মধ্যে সব উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরে আবার আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে, তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ বন্ধ করা যাবে না—এটি বাদ দিয়ে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল–২০২৬ জাতীয় সংসদে তুলেন আইনমন্ত্রী। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ করেছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।
অধ্যাদেশের ওই ধারায় আছে, তিন বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তামাক চাষ করা যাইবে না এবং এক ও দুই ফসলি কৃষিভূমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করিতে হইবে। উত্থাপিত বিলে এই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।


