ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় ‘মগজখেকো অ্যামিবার’ সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি বছরে রাজ্যটিতে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন, তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।
কেরালার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, মৃতের তালিকায় যেমন তিন মাসের শিশু আছে তেমনি আছে প্রায় শতবর্ষী মানুষও।
কেরালার কোঝিকোড়, কান্নুপুর এবং মালাপ্পুরমে রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অ্যামিবাটি যে সংক্রমণ ঘটায়, তাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় প্রাইমারি অ্যামিওবিক মেনিঞ্জিওএনসেফেলাইটিস বা পিএএম।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, সাধারণভাবে ‘মগজখেকো অ্যামিবা’ নামে পরিচিত রোগটির কেতাবী নাম ন্যাগ্লেরিয়া ফাওলেরি। এককোষী এই অ্যামিবা সাধারণত মিষ্টি এবং উষ্ণ জলে থাকা ব্যাকটেরিয়া খেয়ে বেঁচে থাকে। মিষ্টি জলে নামলে মানুষের নাক দিয়ে ঢুকে দ্রুত মগজের কোষে আঘাত করে এই অ্যামিবা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, সংক্রমণের পর প্রাথমিকভাবে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি দেখা দেয়। এক সময় রোগীর খিঁচুনি, ভারসাম্যহীনতাও দেখা দিতে পারে। শেষের দিকে রোগীর কোমাতে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশ কিছু।
কেরালায় রোগটি চিহ্নিত হয় ২০১৬ সালে। আগে বছরে একটি বা দুটি এই অ্যামিবা সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসত। প্রায় সব ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু হতো।
সম্প্রতি এক গবেষণায়ে দেখা গেছে, সারা পৃথিবীতে ১৯৬২ সাল থেকে এই রোগী চিহ্নিত হয়েছেন মাত্র ৪৮৮ জন। বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান আর অস্ট্রেলিয়ায়।
সংক্রমণের হার বাড়লেও কেরালায় প্রাণে বাঁচা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরেএ রোগে আক্রান্ত ৩৯ জন শনাক্ত করা হয়েছিল, তার মধ্যে মৃত্যু হয় ২৩ শতাংশের। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৭০ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে মৃতের হার ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
পুকুর, কুয়ার জল থেকে এই অ্যামিবার সংক্রমণ হতে পারে। তাই সেসব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মহামারি বিশেষজ্ঞ অনীশ টিএস বলেন, ‘কিছু সংক্রমণ ঘটেছে পুকুরে স্নান করার সময়ে, অন্যদের সংক্রমণ হয়েছে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে। এমনকি এক ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নাক দিয়ে জল টেনে নাসিকা-রন্ধ্র পরিষ্কার করতে গিয়েও কেউ কেউ সংক্রমিত হয়েছেন। দূষিত পুকুর হোক বা কুয়া, ঝুঁকিটা থেকেই যায়।


