হরমুজ প্রণালির কাছে গোরুক ও কেশম দ্বীপে সামরিক স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) আলাদাভাবে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, পারস্য উপসাগরে ইরানি রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানি হামলার শিকার হয় কুয়েত ও বাহরাইন।
তাসনিম নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শত্রু ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘অ্যারোস্পেস’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে আইআরজিসি।
অন্যদিকে সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানায়, শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে মোট সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া চারটি ‘ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।
এরপর পারস্য উপসাগরে তেহরানের সম্ভাব্য হামলা রুখতে গোরুক ও কেশম দ্বীপে উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালায় সেন্টকম।
এদিকে গত ২৮ মে থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি ও নিয়মিত হামলার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা।
গত বুধবার মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে কুয়েতের ওই দাবি অস্বীকার করে আইআরজিসি জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) ভুলের কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সেন্টকমও ইরানের ওই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অভিযোগ, ইরান পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে কুয়েতের ওই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।


