কিশোরগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ধানখেত

কিশোরগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ধানখেত
টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে হাওরের বেশিরভাগ ফসল তলিয়ে গেছে | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদী ভরাট ও বৃষ্টির পানিতে ফসল নষ্ট হওয়ায় জেলার কৃষকরা এখন চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

বুধবার অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের মধ্যে যে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে। কোথাও কৃষকরা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, আবার কোথাও ফসল পুরোপুরি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যান্ত্রিক হার্ভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় বাড়তি মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অষ্টগ্রামের কলিমপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে হাওরের বেশিরভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। একই এলাকার হযরত আলী ও কামরুল ইসলাম জানান, সার ও কীটনাশকের চড়া মূল্যের পর এখন ফসল হারিয়ে তারা ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বাজারে ভেজা ধানের চাহিদা কম থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

ছবি: টাইমস

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বেলাল ভূঁইয়া জানান, নদী ভরাটের বিষয়টি প্রশাসনকে আগে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

কৃষক রতন মিয়া ও এংরাজ মিয়া জানান, ধার-দেনা করে চাষ করা ফসল পচে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে ইটনা উপজেলার কাকটেংগুর হাওরেও, যেখানে কৃষক হারুন অর রশিদ ও ফেরদৌস মিয়ার মতো অনেকেই এখন দিশেহারা।

আরও পড়ুন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কাটার গতি কমেছে।

ছবি: টাইমস

ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি নেমে এসেছে।’

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad