অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা শেষে রাজমিস্ত্রির সহকারী

অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা শেষে রাজমিস্ত্রির সহকারী
চাটমোহর পৌর শহরের সাহাপাড়ায় বালু টানার কাজ করছেন গয়ানাথ সরকার। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের গয়ানাথ সরকার জীবনের ৪৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন। অনেক শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়ে হয়েছেন ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষ। অনেকেই মাস শেষে ফি দিয়েছেন, কেউ দিতে পারেননি—তবু তিনি কিছু বলেননি। এখন তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। দৈনিক পারিশ্রমিক পান ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের পড়াশোনার খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করলেও দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা এগোয়নি। শুরু করেন প্রাইভেট পড়ানো, পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ। ইংরেজি ও অঙ্কে দক্ষ হওয়ায় দ্রুত পরিচিতি পান। পরে পৌর শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি নেন। কম বেতন হলেও সম্মানের কারণে পেশায় টিকে থাকেন।

সংসার খরচ ও তিন সন্তানের পড়াশোনা চালাতে নিরলস পরিশ্রম করেন। বড় ছেলে বর্তমানে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে, ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে ও মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।

বছরখানেক আগে বেতন বাড়ানোর অনুরোধে স্কুল কর্তৃপক্ষ সাড়া না দিলে চাকরি ছাড়েন। প্রাইভেট পড়াতেই মনোযোগ দেন। কিন্তু স্থানীয় স্কুলগুলো অভিভাবকদের জানায়—শিক্ষক ছাড়া অন্য কারও কাছে পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফল না করলে কর্তৃপক্ষ দায় নেবে না। এতে তার শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। শেষমেশ পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন। জীবনের প্রয়োজনে তিনি এখন বেছে নিয়েছেন রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চেয়েছিলাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে, কিন্তু ভাগ্য বদলে গেছে। কষ্ট হলেও এটাই নিয়তি।’

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং তার সঙ্গে কথা বলে সহায়তার ব্যবস্থা করবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad