কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া সেফ এক্সিট নেই: সারজিস আলম

কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া সেফ এক্সিট নেই: সারজিস আলম
নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কথা বলছেন সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা।

দুদিন আগেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছে, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।’

এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বললেন, কিছু উপদেষ্টার সামনে মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির জেলা ও উপজেলার সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে এ কথা বলেন তিনি।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার হঠাতে ছাত্র-জনতার যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদ-সারজিসসহ অন্যরা। ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্রনেতাদের ইচ্ছাতেই এই সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। শুরুতে সরকারের যে কলেবর ছিল, তাতে যুক্ত ছিলেন নাহিদও।

ছয় মাসের কিছু বেশি সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এনসিপির দায়িত্ব নিতে পদ ছাড়েন নাহিদ।

আরও পড়ুন

এই ঘটনার সাত মাস পেরোতেই একসময়ের সহ-উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে নিরাপদে প্রস্থান চেষ্টার অভিযোগ করলেন নাহিদ, যে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন তারই ‘সহযোদ্ধা’ সারজিস।

এনসিপির নেতা সারজিস বলেন, ‘কিছু উপদেষ্টার মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা কোনোভাবে দায়সারা দায়িত্ব পালন করছেন। যেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক্সিট নিতে পারলেই হলো। এই দায়সারা দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভ্যুত্থান–পরবর্তী একটি সরকার কাজ করতে পারে না। তারা এত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ওখানে আছেন।’

‘তারা যদি এমনটা করে থাকেন, তাহলে দেশের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। যারা এ ধরনের চিন্তা করেন, তাদের জন্য বলতে হয়—মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই। পৃথিবীর যে প্রান্তে যান, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ধরবে।’

নির্বাচন কমিশন জাতীয় লীগ নামে একটি দলকে নিবন্ধন দিতে উঠেপড়ে লেগেছে অভিযোগ করে সারজিস বলেন, ‘অথচ দলটির অস্তিত্ব বলতে টয়লেটের পাশে একটি ছোট ঘর ছাড়া কিছুই নেই। যেকোনো দলকে নিবন্ধন দিতে হলে আগের মানদণ্ড অনুসরণ করলে চলবে না, সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করতে হবে। যদি এটি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কোনো প্রচেষ্টা হয়, জনগণ ও এনসিপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

বাংলাদেশের ভালো মানুষেরা একত্র হয়ে যদি আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে চায় তাতে আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সন বাংলাদেশে অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়। এনসিপি তা কখনোই মেনে নেবে না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই অংশ নেবে বলেও উল্লেখ করেন সারজিস আলম।

তার দাবি, শাপলা প্রতীকে আইনগত কোনো বাধা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad