বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার জন্য প্রার্থীরা ব্যবহার করেন লিফলেট, পোস্টার, ফেস্টুন। ভোট শেষে যার ঠিকানা হয় মাটিতে বা আস্তাকুঁড়ে। ভোটের সময় কেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে এসব কাগজ। পরিবেশের জন্য যা মোটেই ভালো নয়।
তবে এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে দেখা মিলল নতুন ধরনের প্রচারপত্রের। নির্বাচনের এক প্রার্থী এমন প্রচারপত্র তৈরি করেছেন যেগুলো পড়া শেষে মাটিতে ফেলে দিলে সেখানে গজিয়ে উঠবে গাছ।
এই প্রার্থীর নাম মাহমুদুর রহমান তামিম। ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে।
নিজের প্রচারের জন্য লিফলেট তৈরি করিয়েছেন পুনর্ব্যবহার্য কাগজ বা বনকাগজে। এই কাগজ তৈরির মন্ডের সঙ্গে মেশানো থাকে বিভিন্ন গাছের বীজ। ফলে এই কাগজ মাটিতে পড়ে মিশে গেলে সেখান থেকে জন্ম নিতে পারে গাছ।
পরিবেশবান্ধব আর ভিন্ন এই প্রচার এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তামিম বলেন, ‘প্রচার করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা ঠিক নয়। বরং প্রচারণা যেন পরিবেশের উপকারে আসে, সেটাই আমার লক্ষ্য।’
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’–এর সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কর্মসূচিতেও নিয়মিত অংশ নেন।
তার নির্বাচনী অঙ্গীকারেও রয়েছে পরিবেশ ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার। হলগুলোয় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, ওয়াশরুমে দুর্গন্ধ দূর করা, গাছকাটা রোধ ও মশা–ছারপোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্প্রে চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তানিম।
এছাড়া আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ‘সহযোগিতা তহবিল’ ও ‘আইনি সহায়তা সেল’ গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় ছাত্র–শিক্ষকের সমন্বয়ে ‘মানবাধিকার রক্ষা সেল’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানালেন।
তামিম বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি কেবল নেতৃত্বের নয়, এটি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।’


