কারিগরি শিক্ষা আজ আর বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘জাপান বা জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলো যেভাবে দক্ষ জনশক্তির ওপর ভর করে এগিয়ে গেছে, আমাদেরকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।’
শনিবার রাজশাহী পলিটেকনিকে দিনব্যাপী আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন প্রকল্প আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে জাপান, জার্মানী প্রভৃতি দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরকেও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সনদ দেওয়া নয়, বরং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।’
স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার এবং কারিগরি শিক্ষা সেই রূপান্তরের প্রধান মাধ্যম।
এ ক্ষেত্রে ‘স্কিলস কম্পিটিশন’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আমাদের তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যোগ করেন তিনি
এ সময় নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ।
এ ছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সটাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক।


