আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে লিওনেল মেসি এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ওপর এখন বিশাল প্রত্যাশার চাপ। মাঠের লড়াই শুরুর আগে কানসাস সিটিতে এসে জড়ো হয়েছেন হাজারো অনুরাগী। ফলে পুরো শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক জাদুকরী ও রোমাঞ্চকর পরিবেশ, যা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে লিওনেল স্কালোনির দলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনার মানুষই নয়, পুরো পৃথিবীর সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায়। সবাই তাকে মাঠে দেখতে চায়, কারণ কেবল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ওপরই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ওপরই তার এক জাদুকরী প্রভাব রয়েছে।’
খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মেসির জাদু দেখার জন্য বুয়েনস আইরেস থেকে শত শত সমর্থক বিমানে করে কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছেছেন। কিক-অফের কয়েক ঘণ্টা আগে তারা শহরের রাস্তাগুলো নীল-সাদা রঙে মুখরিত করে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোও এখন শুভকামনা, আশা ও প্রত্যাশার বার্তায় ভাসছে। ম্যাচ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী শহরগুলোতে এই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
এনএফএলের বিখ্যাত দল ‘কানসাস সিটি চিফস’-এর হোম ভেন্যু অ্যারোহেড স্টেডিয়ামকে এই টুর্নামেন্টের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যার দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৭৬ হাজার। স্টেডিয়ামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের গ্যালারিজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা পতাকা ওড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় এই মহারণ শুরু হবে, যা নিশ্চিতভাবে ফুটবল বিশ্বের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
এই উন্মাদনাটি আরও বেশি আবেগ ও গুরুত্ব বহন করছে মেসির ব্যক্তিগত এক মহাকাব্যিক অর্জনের কারণে। তিনি ইতিহাসের প্রথম আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করলেন। ইন্টার মায়ামির ৩৮ বছর বয়সী এই অধিনায়ক ১৮ বছর বয়সে ২০০৬ সালে জার্মানিতে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। এরপর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং কাতারের বিশ্বকাপেও অংশ নেন। আগামী জুনের শেষে এই ফরোয়ার্ডের বয়স ৩৯ বছর হতে চলায়, সমর্থকরা এটিকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাকে দেখার শেষ সুযোগ হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে মেসি যেমন সমাদৃত, তেমনি নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে আসা প্রত্যাশার চাপটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে সমর্থকরা ২০২২ সালের সেই কাতারের কীর্তির পুনরাবৃত্তি আশা করছেন, যাতে তারা জার্মানি ও ইতালির সমান চারটি শিরোপার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল দলের এই মানসিকতা ফুটিয়ে তুলে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমরা কী করছি, তা দিয়েই আমাদের মূল্যায়ন করা হবে। আমরা দারুণ ছন্দে এখানে এসেছি। গত বিশ্বকাপের মতো আমরা এখানেও বুক চিতিয়ে লড়তে চাই। আমরা প্রথম দিন এসে একদম শেষ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে চাই।’
অবশ্য কিক-অফের আগে আর্জেন্টিনার দল নির্বাচন নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে। মেসি হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আঙুলের ফ্র্যাকচার নিয়ে লড়াই করছেন, যদিও তাদের দুজনেই মূল একাদশে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, হুলিয়ান আলভারেজের সামান্য চোটের কারণে আক্রমণভাগে লাউতারো মার্টিনেজের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ জে’তে আর্জেন্টিনা ফেবারিট হিসেবেই প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা আলজেরিয়া এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় চমক বা ‘অচেনা’ শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে, যাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিতেই মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।


