সাজ্জাদ খান পরিচালিত ‘কাঠগোলাপ’ সিনেমাটি বাংলাদেশে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আপিল আবেদন নাকচের কারণে বর্ণিত চলচ্চিত্রটি সার্টিফিকেশনবিহীন চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সমগ্র বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা হলো। চলচ্চিত্রটি কোথাও প্রদর্শিত হলে তা বাজেয়াপ্তকরণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ এর ১২(১) উপ-ধারা লংঘন করে ‘কাঠগোলাপ’ চলচ্চিত্রটি আপিল আবেদন দাখিল করায় তা নাকচ করা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আখতার।
এ বিষয়ে সার্টফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান শুধু এটুকু জানিয়েছেন যে ‘কাঠগোলাপ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কোন কারণে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত কথা বলব।’
‘কাঠগোলাপ’ প্রেমের ভিন্নধর্মী গল্প, যেখানে বহু মানুষের জীবনের সংকট ও স্থবিরতা উঠে এসেছে।
পরিচালক সাজ্জাদ খানের মতে, কাঠগোলাপের মতো মানুষগুলোও সবার উপকারে আসে, তবু সম্পর্কের এক অনুচ্চারিত সংকট কাজ করে। এমন গল্প আগে কোনো চলচ্চিত্রে দেখানো হয়নি, তাই সার্টিফিকেশন বোর্ডের আপত্তি।
তিনি বলেন, ‘সিনেমাটিতে এমন কিছু আমরা দেখাইনি যার কারণে এটি নিষিদ্ধ করতে হবে। বড়ই অদ্ভূত সিদ্ধান্ত হলো। আর সার্টিফিকেশন বোর্ড হয়ে আমাদের লাভ হলো কি? তারা কি আসলে নিষিদ্ধ করতে পারে?’
ড্রিমল্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ফরমান আলী। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিনেমাটি ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সেন্সর বোর্ডে জমা দিই। ২৪ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি বোর্ডে প্রদর্শিত হয়। সেখানে সকল বোর্ড সদস্য সিনেমাটিকে বিনা কর্তনে সেন্সর দিতে মত দেন। কিন্তু তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ আপত্তি জানান।’
তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যানের আপত্তির জায়গা ছিল সিনেমাটির বিষয়বস্তু নিয়ে। ফরমান আলী বলেন, আমরা তখন মো. সাইফুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি দুবার দেখা করি। তিনি আমাদের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা মানুষের জীবনের যে সংকট বা রোগের বিষয়টা ছবিতে এনেছেন তা আদৌ পৃথিবীতে আছে কিনা তা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভিমত জমা দেন।’
তার কথা অনুযায়ী আমরা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা. আলাউদ্দিন খানের বক্তব্য পেশ করি। শুধু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের বক্তব্য নয়, সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে বিশ্বে কী কী সিনেমা হয়েছে, কিংবা গবেষণা প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে তার সবই সেন্সর বোর্ডে সরবরাহ করা হয়েছিল।
বোর্ড ওই বক্তব্য না শুনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে বিশেষজ্ঞ মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেন।
‘তবে ওই চিঠির জবাব কী এসেছে তা জানি না’, বলেন ফরমান আলী।
২০২৪ এর ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্য উপদেষ্টা সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত করে সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের কথা জানান। একই বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের দিকে ফরমান আলীকে সার্টিফিকেশন বোর্ডকে জানায়, তারা সিনেমাটিকে সেন্সর দিতে পারবেন না। এরপর তিনি আপিল করেন।
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের আইন অনুযায়ী প্রযোজক চাইলে নতুন করে সিনেমাটির নতুন কোনো ভার্সন জমা দিয়ে আবার সেন্সরের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বোর্ড সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন বলেন, ‘আমার জানামতে আপিল বোর্ডের মিটিং হয়েছে মাস খানেক আগে। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে বলে শুনেছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটির কিছু বিষয়বস্তু নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছে। তবে প্রযোজক একটু সংশোধন করে সিনেমাটি জমা দিলে সেন্সর পেয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’
নতুন করে সিনেমাটি জমা দেবেন কিনা জানতে চাইলে ফরমান আলী বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত আপিল বোর্ডের কোনো চিঠিই পাইনি। গত পাঁচ দিন ধরে আমি কুড়িগ্রাম। আগে ঢাকায় যাই। চিঠিটা পড়ি। এরপর নতুন করে সিনেমা জমা দেবো, নাকি আদালতে যাব তার সিদ্ধান্ত নেব।’
সিনেমার প্রধান তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল, কেয়া ও মেঘলা মুক্তা। তাদের একজন গৃহিণী, একজন করপোরেট চাকরিজীবী, একজন শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমার কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন অপূর্ণ রুবেল। এতে আরও অভিনয় করেছেন রাশেদ অপু, এ কে আজাদ, জামশেদ শামীম, কুন্তল বুকি, শিল্পী সরকার অপু, সুজন হাবিব।


