পিরোজপুরে কালিগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কলাখালী সেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এটি চালু হলে জেলা সদরের সঙ্গে নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে, যা স্থানীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
সেতুটির মাধ্যমে নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। উন্নত হবে তিন উপজেলার লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলাকে পিরোজপুর জেলা সদর ও নাজিরপুর উপজেলা থেকে পৃথক করে রেখেছে কালিগঙ্গা নদী। দীর্ঘ দিন ধরে কালিগঙ্গা নদীর কলাখালী-চাঁদকাঠী পয়েন্টের খেয়া পারাপারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে আসছেন। চাকরি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজে এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করলেও খেয়া পারাপারের কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘব ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে ২০২২ সালে সরকার ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১৪ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ শিকদার জানান, চাঁদকাঠী ও কলাখালী খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন, যা বিশেষ করে বর্ষাকালে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেতুটি চালু হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পরিবহন খরচ উল্লেখজনকভাবে হ্রাস পাবে। নেছারাবাদ একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং সেখানে বিসিক শিল্পনগরীসহ বহু ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাতায়াত সহজ হলে পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও বেগবান করবে।
বর্তমানে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামের একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করছে। প্রতিদিন এই খেয়া দিয়ে তিনটি উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এবং অন্তত ১ হাজার মোটরসাইকেল পারাপার হয়।
এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, সেতুর কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ প্রায় শেষ। পাইল ও স্প্যান নির্মাণের পর বর্তমানে পিআর ও গার্ডারের কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


