নতুন অর্থবছরে সৌর প্যানেল ও লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে বলে আশা করছেন এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনায় এ কথা বলা হয়।
বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নিয়ে বাজেট প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে এর সুফল নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশ অংশের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৪ শতাংশ।
দেড় দশকে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটে সৌর প্যানেল ও লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর কর সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে, বিপরীতে প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহনের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
শফিকুল বলেন, ‘এ প্রণোদনা মূলত ওপেক্স বা রেসকো মডেল এবং ভ্যাট-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমিত। ফলে জাতীয় গ্রিডের প্রায় ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গৃহস্থালী খাত এবং ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থা এর বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে অসম করে তুলবে।’
সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ডাক কার্ভ’-এর মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে ব্যাটারি স্টোরেজ, চাহিদা স্থানান্তর (ডিমান্ড শিফটিং) এবং আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব, বলছেন তিনি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার জন্যও অপরিহার্য।
বাজেটে ঘোষিত নীতিগত সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।
এই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের তাগিদ দেন বিইআরসির চেয়ারম্যান।
আয়োজন সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে উৎসাহিত করতে হবে।’
পরিবেশগত সুবিধার অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।
ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-স্রেডার পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের তানজিনা দিলশাদ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদও এতে বক্তব্য দেন।


