লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফরোজা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই বাড়ির উঠান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আফরোজা নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। পরে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। ফোনে তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এর কিছুক্ষণ পর ফোন কেটে যায়। পরে দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে আফরোজা অসুস্থ বলে জানান এবং চিকিৎসার জন্য টাকা চান। টাকা পাঠাতে দেরি হলে তিনি আফরোজার মৃত্যুর খবর দেন।
সোমবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার লাশ নিথক গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, লাশটি উঠানে নামিয়ে রেখে স্বামী ও তার স্বজনেরা দ্রুত চলে যান। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
আফরোজার চাচাতো বোন শাপলা বেগম অভিযোগ করেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহের সঙ্গে উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি কাগজ পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে স্বজনেরা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি করেছেন।
ওসি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


