কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২০১৮ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক।
একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন এবং সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব ও আশিকুর রহমান।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ অলি মিয়া। তিনি আদালতে জানান, আদালতের আগের আদেশ অনুযায়ী চার আসামিকে হাজির করা হয়েছে। অন্য সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে পায়নি।
এরপর প্রসিকিউশন চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং বাকি সাতজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলী এলাকার একটি সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।
একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুল হককে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা এবং ওই অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
গত ২৬ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।


