মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে চাষ করা পেঁপে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তারা অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে সরকারি খাল ভরাটের কারণে তিন ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর সিংগাইরে ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ করা হয়েছে। গত বছর চাষ করা হয়েছিল ৭৬০ হেক্টর জমিতে। এবার প্রায় ৫০ কোটি টাকার পেঁপে বিক্রি হবে বলে আশা করেছিল কৃষি অফিস। কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা কয়েকদিন আগে হওয়া বৃষ্টির পানি এখনো অনেক জমিতে জমে আছে। কারো কারো জমি থেকে পানি নেমে গেলেও পেঁপে গাছের গোড়া পচে ফলসহ মরে যাচ্ছে। এতে পেঁপে চাষ করতে যা খরচ হয়েছে তা তুলতে পারবে না বলে হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।
জানা যায়, সিংগাইরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁপে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া সিংগাইরে পেঁপে বিক্রির জন্য গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি পাইকারি আড়তেও প্রচুর পরিমাণে পেঁপে কেনাবেচা করা হয়। চলতি বছর পেঁপে চাষিরা দুই-তিনবার পেঁপে বিক্রি করেছিলেন। এতে অনেকের খরচ ওঠেনি। ফলে তারা খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
অপরদিকে, প্রতিবছর সিংগাইর থেকে কোটি কোটি টাকার পেঁপে বিক্রি করা হয় বলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে। কিন্তু চলতি বছর পেঁপে চাষিদের এমন ক্ষতির কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পেঁপে চাষি মনছুর আলী, আনছার, ছাত্তার প্রামাণিক, হোসেন বেপারী ও খোকনের বলেন, ‘আমাদের অনেকেই চার-১০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে পেঁপে চাষ করেছে। প্রতিটি গাছে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় গাছের গোড়া পচে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে পেঁপে চাষ করতে যে খরচ হয়েছে তা ফেরত পাওয়ায় কঠিন হয়ে পড়বে।’
তারা আরও বলেন, ‘ঋণ করে আমরা পেঁপে চাষ করেছিলাম। এখন সেই ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে সরকারি খাল ভরাট করে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এমন ক্ষতির জন্য দায়ী। তাই চাষযোগ্য তিন ফসলি জমি রক্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
জয়মন্টপ ইউনিয়নের দেওলী গ্রামের পেঁপে চাষি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি প্রবাস থেকে ফিরে জীবিকার তাগিদে কৃষি কাজ শুরু করি। চলতি বছর আমি চার বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছিলাম। মাত্র তিন বার পেঁপে সংগ্রহ করে বিক্রি করেছি। এতে খরচই ওঠেনি। এরই মধ্যে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তবে, যদি সরকারি সহায়তা পাই তাহলে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারব।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী জানান, রাজধানীর ‘কিচেন গার্ডেন’ খ্যাত সিংগাইরে পেঁপে একটি লাভজনক ফসল। তবে টানা বৃষ্টি কারণে হঠাৎ করে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় গাছের গোঁড়া পচে মারা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৮ হেক্টর জমির পেঁপে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে পেঁপে চাষীদের ক্ষতি কিছুটা কমাতে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


