কক্সবাজারের পেকুয়ায় কাজল রেখা (১৯) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাত্র সাড়ে চার মাসের দাম্পত্য জীবনের মাথায় তার এই রহস্যজনক মৃত্যু হলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের যৌতুক হিসেবে দেওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রি করা নিয়ে দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়। এই কারণে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান। তারা কাজল রেখাকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার আমি বোনকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তখন সে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল। আজ দুপুরে তার জামাই ভিডিও কলে আত্মহত্যার খবর জানায়। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না।’
নিহতের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার মেয়েকে স্বামী ও তার আত্মীয়স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ঘটনার তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে কাজল রেখার মায়ের মোবাইলে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। এরপর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’


