ওরাকল, অ্যামাজনে হামলার দাবি ইরানের, আমিরাত বলছে ‘ভুয়া’

ওরাকল, অ্যামাজনে হামলার দাবি ইরানের, আমিরাত বলছে ‘ভুয়া’
Advertisement
Advertisement

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনপ্রিয় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের একটি ডাটা সেন্টারে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে দুবাই কর্তৃপক্ষ এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর খবরে বলা হয়, দেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজি ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ওরাকলের স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, গত বুধবার তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খাররাজি গুরুতর আহত হন এবং তার স্ত্রী নিহত হন।

অন্যদিকে ইরানের এই দাবিকে ‘মনগড়া ও ভুল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আরব আমিরাত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দুবাই মিডিয়া অফিস জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা নেই। ওরাকল ডাটা সেন্টার অক্ষত আছে, সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি৷

বাহরাইন

আলাদা আরেক বিবৃতিতে বাহরাইনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে হামলার দাবি করে আইআরজিসি।

আরও পড়ুন

আইআরএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি শত্রুর প্রতি প্রথম কার্যকর সতর্কবার্তা। যদি সতর্কতা উপেক্ষা করা হয় এবং হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে আমরা পরবর্তী পর্যায়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

আইআরজিসির ভাষায়,’ভবিষ্যতে এসব কোম্পানির সম্পূর্ণ ধ্বংসের দায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই বর্তাবে।’

এর আগে বুধবার ইরান বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর হুমকি দেয়। আইআরজিসি প্রকাশিত একটি তালিকায় অ্যাপল, গুগল এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় ও জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে৷ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

তেরানের অভিযোগ, এসব প্রযুক্তি কোম্পানি ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে। তাই তাদের হামলার ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এখন পর্যন্ত মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

ইরানও পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মার্কিন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad