বাংলাদেশকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে পারে মালয়েশিয়া। সরবরাহ সংকটের কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এটিই হতে পারে দ্রুততম পথ।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে মালয়েশিয়ার তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরকারি ও শিল্প সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধে মালয়েশিয়া ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মালয়েশিয়া থেকে আসা চালানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দ্রুত চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
ইআরএল সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হতে পারে। চুক্তি হলে মালয়েশিয়া থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে তেল পৌঁছানো সম্ভব। এই তেলের চালান মালাক্কা প্রণালি ও বঙ্গোপসাগর হয়ে আসবে।
ইআরএল-এর মহাব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান কাজ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘পথ সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে মালয়েশিয়ার তেল আমাদের জন্য সুবিধাজনক এবং এটি শোধনাগার বন্ধ হওয়ার উদ্বেগ কমাতে পারে।’
কর্মকর্তারা বলছেন, ইআরএল-এর বর্তমান মজুত দিয়ে ১২ বা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে, এরপর শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই রিফাইনারির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়ার তেলই এখন দ্রুততম বিকল্প।
ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন ও দেশের চাহিদার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পূরণ করে। এই রিফাইনারির জন্য সর্বশেষ চালানটি এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ জাহাজে করে। এরপর আর তেলের কোনো চালান আসেনি।
রিফাইনারির কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, মূলত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রিফাইনারির রক্ষণাবেক্ষণের সম্পর্ক নেই।
অন্যান্য চালানও প্রক্রিয়াধীন
কর্মকর্তারা জানান, আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুকা বন্দরে ‘নরডিক পোল্যাক্স’ নামের একটি জাহাজে আটকে আছে। জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এই পথ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে এবং তিনি অনুমতির বিষয়ে আশাবাদী। অনুমতি পেলে জাহাজটি ১১ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পারে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আরও এক লাখ টনের একটি পৃথক চালান লোড করা হচ্ছে যা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করবে না। আগামী ২০ এপ্রিল এই জাহাজটি রওনা দিয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর বাংলাদেশে জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কমে গেছে। সরকার আমদানি ত্বরান্বিত করতে আটকে থাকা চালানগুলো ছাড়িয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক পথ ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ বছরে ১২ লাখ টন থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যার অর্ধেকের বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। মে মাসে সৌদি আরব থেকে আরও দুই লাখ টন তেল আমদানির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।


