এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এসএসসির রেজাল্ট ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে–সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।’ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে শিক্ষাবোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। ১৮ বছর বয়সে যেখানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সেশনজটের কারণে অনেকের ২০ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ সুগম করতে এবং পরীক্ষা-পরবর্তী সময় অপচয় রোধে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩ বছরের কোর্স ৩ বছরে এবং ৫ বছরের কোর্স ৫ বছরেই শেষ করতে হবে—কোনো ওয়েটিং সেশন বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের পূর্ণ সুবিধা নিতে হলে আমাদের এই সময় অপচয় রুখতেই হবে। শুধু এসএসসি নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সেশনগুলোকেও আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি।’
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছরের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সেশনজট পুরোপুরি দূর করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করা হয়েছে।
‘রুটিনটি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মতামত আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,’ যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। আগামী বছর চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
এ বছর মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণ হওয়ার এ পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন মেয়ে। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।
এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন মেয়ে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছেলে এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন মেয়ে। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৭৪২টি কেন্দ্রে।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন ছেলে এবং ৩৩ হাজার ১৫১ জন মেয়ে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৬৫৩ কেন্দ্রে।


