রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
একই সঙ্গে কমেছে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও। গত বছর ৯৯টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী পাস করলেও এবার এমন বিদ্যালয় রয়েছে ৩৫টি। অর্থাৎ এক বছরে শতভাগ পাসের বিদ্যালয় কমেছে ৬৪টি।
চলতি বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৯০৮ জন। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার পাস করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী এবারের ফলাফলকে ‘স্ট্যান্ডার্ড রেজাল্ট’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সবাই তো ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। পড়ে পাস করলে এরকমই ফলাফল হওয়ার কথা।’
চেয়ারম্যান বলেন, সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, পাসের হার নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্যায়নই শিক্ষার মান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।
করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৯০ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
এর বিপরীতে ২০২৬ সালে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে ৭৭ থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশের মধ্যে থাকা পাসের হার এবার এক ধাক্কায় ৬৪ শতাংশের নিচে নেমেছে।
শতভাগ পাসের বিদ্যালয় কমেছে ৬৪টি
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৯৯টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৫টি।
২০২৪ সালে ২৮৯টি, ২০২৩ সালে ১৭৮টি, ২০২২ সালে ১৪৭টি, ২০২১ সালে ৩৬৮টি এবং ২০২০ সালে ৩০৮টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে
এবার পাসের হারে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা পিছিয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে। মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ১২২ জন।


