ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখতে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর মহাসড়কে চার লেনের সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা।
সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতাধীন এই অংশে বর্তমানে যানবাহনসমূহ কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে যমুনা সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে জানান, বিগত বছরগুলোতে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এবার চলমান উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে নির্মিত ২ লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কের সফল সমন্বয় করে পুরো অংশে কার্যত ৪ লেনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফলে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী উভয় প্রান্তের যানবাহন কোনো কৃত্রিম যানজট ছাড়াই স্বাভাবিক গতিতে যাতায়াত করতে পারবে। এ ছাড়া যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন পর্যন্ত ২ লেনের ৭০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট সড়ক যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তিনি জানান।
পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জানান, এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার এলাকায় উভয় পাশে ২ লেন করে সড়ক ৪ লেনে প্রশস্ত করায় এবং পর্যাপ্ত বাস-বে নির্মাণের ফলে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সৃষ্ট যানজট এবার পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হবে।
রাতে চালকদের সুবিধার্থে রিফ্লেকটিভ স্টিকারসহ বাঁশের খুঁটি ও টেকসই কংক্রিট ডিভাইডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের টিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রকল্প প্রকৌশলীরা এই অংশে যান চলাচল সচল রাখতে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন।
সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর আওতায় এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কটি একপাশে পৃথক ২ লেনের সার্ভিস সড়কসহ মূল ৪ লেন অর্থাৎ মোট ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে বর্তমানে কার্যত চারলেনের সুবিধা সচল করা হয়েছে, যেখানে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন নতুন নির্মিত দুই লেনের সার্ভিস সড়ক দিয়ে এবং ঢাকামুখী যানবাহন বিদ্যমান দুই লেনের মূল সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে।
নির্মাণাধীন এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার অংশে গতিহ্রাস রোধে বিশেষ নকশায় ফ্লাইওভারের উভয় পাশে দুই লেন করে মোট চার লেন সড়ক প্রশস্তকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
গণপরিবহন যেন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যানজট সৃষ্টি না করে, সেজন্য এলেঙ্গা বাজার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী ও ঢাকামুখী উভয় লেনের জন্য ২টি স্থায়ী বাস-বে এবং সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আরও বেশ কয়েকটি বাস-বে সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতা রোধে প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
নির্মাণাধীন উত্তরবঙ্গমুখী নতুন মূল দুই লেন সড়ক এবং সচল করা সার্ভিস সড়কের মধ্যবর্তী অংশে টেকসই কংক্রিটের সড়ক বিভাজক স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সংবেদনশীল ও বাঁকযুক্ত অংশে চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে উচ্চ মানের রিফ্লেকটিভ স্টিকার যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং সেতু বিভাগের সচিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পদ্মা ও যমুনা সেতু এলাকায় আরও কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষ কর্মী নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু এবং সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্র্যাফিক মনিটরিং।
এ ছাড়া উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেতুর প্রতি ৩০০ মিটার পর পর সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে এবং কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রমের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
আবদুর রউফ জানান, দ্রুত টোল পরিশোধের জন্য বুথগুলোতে পর্যাপ্ত খুচরা টাকার সংস্থান রাখা, কোরবানির পশু বহনকারী গাড়িগুলোকে ওয়েইং স্কেল মেশিনের আওতামুক্ত রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং জরুরি প্রয়োজনে টোলপ্লাজার পাশে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এসব পদক্ষেপের ফলে আসন্ন ঈদে এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা যানজটের আশঙ্কা নেই, যোগ করেন তিনি।


