কিলিয়ান এমবাপ্পে মনে করেন, আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় বর্তমান ফ্রান্স দলের আক্রমণভাগ অনেক বেশি শক্তিশালী। আর এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে সোমবারে ‘আই’গ্রপের ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লে ব্লুজরা।
ম্যাচটি ফরাসি অধিনায়কের জন্য দারুণ এক মাইলফলকের, যেখানে নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এমবাপ্পে।
গত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ফ্রান্স এবার ২০২৬ সালেও আক্রমণভাগের দুর্দান্ত সব বিকল্প নিয়ে বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছে। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে বিরতির পর দিদিয়েন দেশমের শিষ্যরা নিজেদের মেলে ধরেছিল, যেখানে এমবাপ্পে নিজে জোড়া গোল করেন এবং বেঞ্চ থেকে উঠে এসে আরেকটি গোল যোগ করেন ব্রেডলি বারকোলা।
এমবাপ্পের বিশ্বাস, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের ফাইনাল খেলা দলগুলোর চেয়ে বর্তমান দলটি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলে। তিনি বলেন, ‘২০১৮ এবং ২০২২ সালের তুলনায় এটি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক একটি দল, যা মূলত সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে তৈরি। দ্বিতীয় অর্ধে আমরা টেকনিক্যালি চমৎকার অবস্থানে থাকলে কী করতে পারি, তার একটা ঝলক ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।’
সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ফ্রান্স নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা ভুগছিল, যতক্ষণ না মাইকেল অলিসে খেলায় গতি এবং মুভমেন্টের সঞ্চার করেন। এমবাপ্পে নিজের সঙ্গে অলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং দেজিরে দুয়ের মধ্যে গড়ে ওঠা চমৎকার বোঝাপড়ার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘মাইকেলের সঙ্গে আমাদের সংযোগটি দারুণ ছিল। আক্রমণের দায়িত্বে থাকা আমরা চারজন নিজেদের মুভমেন্ট ও পজিশনিং নিখুঁতভাবে সমন্বয় করতে পেরেছিলাম। এই ধরনের জায়গা বদলের কল্যাণে, হয়তো আক্রমণভাগের অন্য দুই খেলোয়াড় আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।’
সেনেগালের বিপক্ষে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আক্রমণের চারজনের মধ্যে ওই ছিল সেরা। ওই আমাদের খেলার গতি ও প্রবাহ সবচেয়ে বেশি সচল রেখেছিল।’
নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের এখন ইরাকের বিপক্ষে জয় প্রয়োজন। আর ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচটি এমবাপ্পের ক্যারিয়ারেও যোগ করতে যাচ্ছে নতুন এক ব্যক্তিগত পালক।
শততম ম্যাচ নিয়ে ফরাসি তারকা বলেন, ‘নিজের দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা সব সময়ই অত্যন্ত আনন্দের। ১০০ একটি ঐতিহাসিক সংখ্যা এবং বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য এই ম্যাচটিকে ভীষণ স্পেশাল করে তুলবে।’


