যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আরাগচি  

যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আরাগচি  
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তবে তারাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি তেহরানের শক্তি “পরীক্ষা” করতে চায়, তাহলে আমার দেশও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থান ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ায় এ মন্তব্য করেন আরাগচি।

আরাগচি বলেন, ‘চলমান অস্থিরতার মধ্যেও তেহরান-ওয়াশিংটন যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে। আমার দেশ “সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত”। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত।’

এর আগে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনির সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নেতৃত্বের ভূমিকার কারণে তিনি ‘কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছেন, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন-তেহরান বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বৈঠকের আগেই ইরানে যা ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র এখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের এমন হুমকির জবাবে আরাগচি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি ইরানে সামরিক শক্তির পরীক্ষা করতে চায়, তারা আগেও একই কাজ করেছে, তবে এবার আমরা প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন

তিনি আল জাজিরা আরবিকে বলেন, বিক্ষোভের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং এখনও চলছে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচিত কিছু শর্ত তেহরান পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত, যদি তা হুমকি বা কোনো শর্ত ছাড়া হয়। ওয়াশিংটন কি “ন্যায্য ও সুবিচারমূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত?” বল এবার তাদের কোর্টে। যখন তারা প্রস্তুত হবে, তখন আমরা আলোচনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নয়, সংলাপের ‘বুদ্ধিমান পথ’ বেছে নেবে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য যারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কার সিংহখচিত পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি

ইরানে বিক্ষোভে সহিংসতা ও ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির বিষয়ে আরাগচি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে “অনুপ্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।” আমরা সাধারণ বিক্ষোভকারীদের নয়, বরং ওই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।’

গত ডিসেম্বরের শুরুতে ইরানজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তা তীব্র আকার ধারণ করে এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। এছাড়া বিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের শেষ রাজা মোহাম্মদ শাহ রেজা পাহলভির ছেলে ও ইরানের ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভিকেও দায়ী করছে আয়তুল্লাহ আলী খামেনির কর্তৃপক্ষ।

দেশটির বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বিক্ষোভে সৃষ্ট সহিংসতা দমনে শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে অধিকারকর্মীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং শত শত বিক্ষোভকারীকেও হত্যা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে বিক্ষোভ ও সহিংসতার যথাযথ তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad