আবেদন আহ্বানের এক বছরেরও বেশি সময় পেরোলেও ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩’-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা নিয়ে জটিলতা কাটেনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত বছরের ২৬ জুন পুরস্কারের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমাও দেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এখনো তারা জানেন না, কবে নাগাদ আসবে বিজয়ীদের নামের ঘোষণা।
এ পুরস্কারের অগ্রগতি জানতে টাইমস অব বাংলাদেশ কথা বলেছে জুরি বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, গত মার্চেই সুপারিশ জমা দিয়ে দিয়েছেন। মোট ২৭টি ক্যাটাগরির প্রত্যেকটিতে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক নাম জমা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এরপর আর কোনো কিছু জানায়নি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
জুরি বোর্ডের সদস্য সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক ওয়াহিদ সুজন বলেন, ‘গত মার্চের শুরুতে আমরা পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করেছি। কী কারণে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম এতদিনেও ঘোষণা হয়নি, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। বছর প্রায় শেষ হতে চলল। এটি আরও আগে ঘোষণা করলেই ভালো হতো।’
তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে এক নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে সুজন বলেন, ‘যেখানে জুরি বোর্ডের সদস্যদের কয়েকজন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য সচিব ও অন্যরা। সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা না হলেও ধারণা করছি, শিগগিরই পুরস্কার ঘোষণা হবে।’
আরেক সদস্য সংগীত পরিচালক মাকসুদ জামিল মিন্টু বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত নম্বর জমা নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের আরেকটি কমিটি পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করে। সে কমিটি মিটিং যতদূর জানি এখন পর্যন্ত মিটিং করেনি।’
জুরি সদস্য চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন পলাশ বলেন, ‘আমাদের জুরিদের দিক থেকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এখন কেন দেরি হচ্ছে তা আমরা বলতে পারব না।’
এখানে কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাজ করছে কিনা জানতে চােইলে পলাশ বলেন, ‘জটিলতা বলা ঠিক হবে না। কারণ সেটা হলে তো বিভিন্ন সমস্যা থাকত। এখানে যেটা হচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা।’
একটি সূত্র বলছে, সরকারের ইচ্ছা ২০২৪ সালের সিনেমাগুলোকেও একই সঙ্গে পুরস্কার দিতে। যদিও এখন পর্যন্ত এর জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশ বলেন, ‘দুই বছরের পুরস্কার এক সঙ্গে দেওয়ার আলাপ আমিও শুনেছি। কিন্তু সেটা অফিসিয়ালি কিছু জানি না।’
কেন পুরস্কার ঘোষণা হচ্ছে না তা জানতে টাইমস অব বাংলাদেশ যোগাযোগ করেছিল তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছা. শারমিন আখতারের সঙ্গে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, জুরিদের দেওয়া প্রাথমিক নম্বর অনুযায়ী, ২০২৩ এর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ ক্যাটাগরিতে এগিয়ে আছে ‘সাঁতাও’ ও ‘আদিম’। এছাড়া আজীবন সম্মাননা পেতে পারেন জাভেদ ও শবনম।


