রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবার দাবি করেছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে।
তেজগাঁও থানায় আবুল কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন, ‘এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যা। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। টাকা বা চাকরি দিয়ে এই অবহেলার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক ইখতিয়ার হোসেন জানান, নিহত আবুল কালাম আজাদ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি এলাকার জলিল চকদারের ছেলে। তিনি উত্তরা এলাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করতেন।
আইরিন আক্তার বলেন, তাদের ছেলে মাত্র ৪ বছর এবং মেয়ে ৩ বছরের। ‘অল্প বয়সে তারা তাদের বাবাকে হারাল। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে?’
নিহতের শ্যালক সোহাগ আহমেদ জানান, আবুল কালামের বসবাস ছিল নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায়। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে থাকতেন। একসময় মালয়েশিয়ায় থাকলেও ছয় বছর আগে বিয়ে করার পর আর বিদেশে যাননি।
রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফয়জুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজন সদস্যকে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএমটিসিএল) চাকরি দেওয়া হবে।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রোরেলের ৪৩২ ও ৪৩৩ নম্বর পিলারের মাঝখানে একশ কেজির বেশি ওজনের রাবারের তৈরি বিয়ারিং প্যাড ওপর থেকে খুলে নিচে পড়ে আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।


