বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুব আলমকে আদালতে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শাহরাস্তিতে গত ৫ মে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তবে আদালতের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করায় আইনি প্রশ্ন তুলেছেন চাঁদপুরের আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ।
রোববার তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়।
বিচারকের আদেশে বলা হয়, ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ।
এ ধরনের অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম বা সাজা দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের, যা কোনোভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করে, অভিযুক্তদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা আইনি এখতিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২২০ ধারার পরিপন্থী হতে পারে বলেও আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হলো না, সে বিষয়ে সুষ্ঠু ও আইনি ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য শাহরাস্তি থানার ওসিকে মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। এদিন ওসিকে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে শাহরাস্তি থানার ওসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, ওসি আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন এবং অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হবেন। তিনি জানান, যে চার ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং যিনি পালিয়েছে, তারা সবাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আর ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ইভটিজিংয়ের পরদিন ৫ মে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনের কাছে তাদের হাজির করা হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সাত দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে চারজনের অভিভাবকরা টাকা পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে নেন।


