স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।’
শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী একথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, শুরুতে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের সংক্রমণ বেশি ছিল। বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারসহ কয়েকটি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে বা কমতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ফাইট করছি এবং সক্ষমতার সঙ্গে ভ্যাকসিন হাতে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি এবং আগামী এক সপ্তাহের ভেতরে আমরা আশা করি সফল হব।’
মন্ত্রী জানান, হামের টিকাদান কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ব্যাপকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনায় এবং তিনি নিজে রূপগঞ্জে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সচিবালয়ের কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থাকবেন।
যক্ষ্মার টিকা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যক্ষ্মার টিকার কোনো ঘাটতি নেই। আগামী জুন মাস পর্যন্ত যে ভ্যাকসিন স্টক আছে, তা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম বিনা বাধায় চালাতে পারব।’
সাখাওয়াত হোসেন জানান, যক্ষ্মার বিসিজি টিকা, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং ইপিআইয়ের পরবর্তী ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন টিকাও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে জনবল ও টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ছিল এবং তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি। তার ভাষায়, জনস্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বরং গতানুগতিক কার্যক্রম চলছিল।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ইউনিসেফ, গ্লোবাল হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভির সহযোগিতায় করোনাকালে অব্যবহৃত তহবিল ব্যবহার করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছে। এ জন্য ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
সিরিঞ্জের মজুত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সিরিঞ্জ মজুত আছে। গ্যাভির কাছে ৫৪ মিলিয়ন সিরিঞ্জ রয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে আংশিক চালান পাওয়া যাবে এবং মে মাসের মধ্যেই পুরো সরবরাহ এসে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, ‘সিরিঞ্জের কোনো প্রবলেম হবে না। তবে এটুক নিশ্চিত করি কোনো সিরিঞ্জের ঘাটতি নেই। সামনের দিনও হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন কার্যক্রমে কোনো গাফিলতি নেই, বর্তমান মজুত পর্যাপ্ত এবং আগামী ছয় মাসের জন্যও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে স্টক মনিটরিংয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকার নোটিশ টানানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি সম্ভবত টাকা মারার জন্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়ে আসছি। আজকে সন্ধ্যার মধ্যে আমাকে জানাবে কে নোটিশ লাগিয়েছিল। কেন লাগিয়েছিল? বের করে আমরা তাদের টার্মিনেট করব চাকরি থেকে, যদি আমাদের কোনো স্টাফ থেকে থাকে।’
সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রয়েছে এবং উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোকে স্থানীয়ভাবে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক নির্ভরযোগ্য কোনো ভ্যাকসিন এখনো নেই। তবে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সিটি করপোরেশনগুলোকে লার্ভা ও মশা নিয়ন্ত্রণে স্প্রে কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিকাদান কর্মীদের বেতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকাদানকারীরা সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তাদের বেতনের সমস্যা নেই। পোর্টারদের বকেয়া বেতন আগামী সপ্তাহ থেকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, রাজশাহীতে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। মানিকগঞ্জে ৮ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে জেলা পর্যায়ে আরও ১০টি আইসিইউ ইউনিট চালু করা হবে।


