একটি স্টলে আধুনিক লাইটিং সামগ্রী নিয়ে ব্যাখ্যা করছেন আল হেরাম লাইটিংয়ের বিক্রয়কর্মী। পাশের স্টলে রং, ক্যাবল, স্যানিটারি পণ্য, নির্মাণসামগ্রীর নতুন প্রযুক্তি দেখছেন স্থপতি ও ভবনমালিকেরা। কেউ পণ্যের মান ও দাম তুলনা করছেন, কেউ আবার নিজের নতুন বাড়ির জন্য উপযোগী পণ্য সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।
এভাবেই নির্মাণ খাতের নানা পণ্য, প্রযুক্তি ও পেশাজীবীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো ২০২৬’। নগরের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া তিন দিনের এ আয়োজনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ৩০টি নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
পাশাপাশি চট্টগ্রামে কর্মরত প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ স্থপতি, প্রকৌশলী ও ডেভেলপারসহ নির্মাণ খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মিলন ঘটছে এখানে। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। ২২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনীটি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা যায়, নির্মাণ খাতের পরিচিত ব্র্যান্ডগুলো তাদের নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। রড, রং, ক্যাবল, লিফট, স্যানিটারি পণ্যসহ ভবন নির্মাণের বিভিন্ন উপকরণ এক জায়গায় দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি চলছে ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও সেমিনার।
নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা ও একটি আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজে যুক্ত মাহবুব আলম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘বাড়ি করতে গেলে কোন পণ্য ভালো, কোনটি টেকসই–এসব নিয়ে অনেক দ্বিধায় থাকতে হয়। বাজারে একেক দোকানে একেক ধরনের কথা বলা হয়। এখানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য পাশাপাশি দেখে তুলনা করার সুযোগ হচ্ছে। সরাসরি কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’
নির্মাণ খাতের একজন তরুণ পেশাজীবী নুরুল আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে অনেক সময় নতুন প্রযুক্তি ঢাকার পরে আসে। এই ধরনের এক্সপো হলে নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে দ্রুত জানার সুযোগ হয়। বিশেষ করে স্থপতি, প্রকৌশলী ও সাধারণ গ্রাহক–সবাই একই জায়গায় থাকায় সরাসরি মতবিনিময় করা যায়।’
আর আর ক্যাবেলের সিনিয়র এজিএম মামুন বলেন, ‘সাধারণত আমাদের শোরুম বা ডিলারের কাছে গ্রাহক আসেন। কিন্তু এখানে একই সঙ্গে স্থপতি, প্রকৌশলী, ডেভেলপার ও বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হচ্ছে।’
আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রী এখন শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলে না; নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা নতুন প্রযুক্তির এসব দিক দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছি।’
‘চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো ২০২৬’ সাবকমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ স্থপতি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও ডেভেলপার কাজ করছেন। নির্মাণসামগ্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পেশাজীবী ও সাধারণ গ্রাহকদের দ্বিধা কমাতে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই ছাদের নিচে আনা হয়েছে।
মেলা কমিটির উপদেষ্টা ও পিটুপির পরিচালক স্থপতি মেহেদী ইফতেখার বলেন, নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রামের স্থপতিদের যোগাযোগ তৈরি করা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবহারকারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বাস্থই চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাবেক চেয়ারম্যান স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, চট্টগ্রামে নতুন নির্মাণপ্রযুক্তি ও আধুনিক উপকরণ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। এ এক্সপো শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়; বরং জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনী চলাকালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্থপতি ও প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণে কয়েকটি সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশেষ করে তরুণ স্থপতি ও নির্মাণ খাতের পেশাজীবীরা নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
প্রথমবারের এ আয়োজনে প্রবেশে কোনো ফি নেই। ফলে সাধারণ ভবনমালিক থেকে শুরু করে স্থপতি, প্রকৌশলী, ডেভেলপার ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্মাণসামগ্রী বিক্রির পাশাপাশি পেশাজীবী, উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হওয়াই এ মেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।


