আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৫’ (বিএএনএমইউএন)।
শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘বিএএনএমইউএন তরুণদের বাস্তব কূটনীতির জটিলতা বোঝার সুযোগ তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় শুধু প্রযুক্তি বা অর্থের কথা বললে হবে না, এর প্রভাব মানুষের জীবনে কীভাবে পড়ছে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায্য রূপান্তর মানে শুধু জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে নবায়ণযোগ্য শক্তিতে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে মানুষের জীবন, সমতা ও যৌথ দায়িত্বের বিষয়ও জড়িত।’
বিশ্ব জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছে।
তিনি প্রতিনিধিদের সতর্ক করে বলেন, সব দেশের জন্য একই সমাধান কার্যকর হয় না। প্রতিটি দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী জ্বালানি রূপান্তরের পথ ঠিক করতে হয়। কূটনীতি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউনিস্যাব) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ।
তিনি বলেন, মডেল ইউনাইটেড নেশনস কোনো শুধু বিতর্ক নয়, বরং ভিন্নমত বোঝার একটি অনুশীলন।
প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জয় বা পরাজয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্য পক্ষের কথাটা বোঝার চেষ্টা করা। কারণ যাদের সঙ্গে আপনি একমত নন, তাদের কথার মধ্যেও যুক্তি থাকতে পারে।’
বাংলাদেশে এমইউএন সংস্কৃতি চালুর শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, এক সময় এই ধরনের কূটনৈতিক অনুশীলন দেশে খুব একটা পরিচিত ছিল না। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ হলেও অনেকেই শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের বাইরে রয়েছেন।
তিনি সরকারের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, বিএএনএমইউএনের মতো উদ্যোগ তরুণদের ভাবনা ও বাস্তব উন্নয়নের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দ্য টাইমস অব বাংলাদেশের প্রকাশক মো. মাসুদ রাজ্জাক। তিনি জানান, পত্রিকাটি চালু হওয়ার পর বিএএনএমইউএনের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম বড় অংশীদারিত্ব।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তোমরাই শক্তি, তোমরাই ভবিষ্যৎ।’ তার মতে, জ্বালানি রূপান্তরের আলোচনায় তরুণরা শুধু দর্শক নয়, সরাসরি অংশীজন।
অপর বিশেষ অতিথি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ইউনিস্যাব এর সাবেক সভাপতি ড. তৌফিক জোয়ার্দার বিএএনএমইউএনের সূচনা লগ্নের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, তখন তথ্য সহজে পাওয়া যেত না। তাই পড়াশোনা ও অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমইউএন সংস্কৃতি বিস্তৃত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তিনি এটিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন। তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘ কেবল একটি ধারণা নয়, এটি বাস্তব ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ফল। তরুণ প্রজন্মের বাস্তবতা উপেক্ষা করলে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব কমে যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি রূপান্তর ও বৈশ্বিক নীতির বিষয়ে ন্যায় ও জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিতে বিষয়গুলো বিশ্লেষণের আহ্বানও জানান তিনি।


