উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে। ফলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে চলেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে, এদিন সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতকরা ৭৯ শতাংশ। সোমবার সার্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়৷ শীতের তীব্রতাও থাকে অনেক বেশি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে এ জেলার গরিব অসহায় ও শীতার্ত মানুষেরা।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে খেটে খাওয়া মানুষদের ওপর। শীতের কারণে এসব কর্মজীবী মানুষ সময় মতো কাজে যেতে পারেন না এবং ঠিকমত কাজও করতে পারেন না।
এ সময় জেলায় শীতের প্রকোপে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, গত কয়েক দিন ধরে জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমতে শুরু করছে। চলতি মাসে শৈত্য প্রবাহ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সূর্য। যে কারণে দিনেও শীতের অনুভূতি আরও অনেক বেশি হচ্ছে।
জেলার তেঁতুলিয়া মহানন্দা নদীতে পাথর তুলতে আসা পাথর শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিন থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। আমরা গরিব মানুষ, জীবিকা নির্বাহ করি পাথর উত্তোলন করে। ঠান্ডা পানিতে কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়। সকাল বেলা কুয়াশা আর ঠান্ডার মধ্যে নদীতে কাজ করতে আসি।’
জেলা শহরে ভ্যান চালক আব্দুস সামাদ বললেন, ‘সকালে অনেক কুয়াশা ও ঠান্ডা পড়ে। দিনের বেলা তেমন শীত না থাকলেও সন্ধ্যার পর আবার শীত নামতে শুরু করে। সরকার যদি এখন শীতবস্ত্র দিত তাহলে আমাদের মতো গরিবদের অনেক উপকার হতো।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘সকাল ৯টায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আগামী সপ্তাহের তাপমাত্রা আরও কমে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

অন্যদিকে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামেও শীত বাড়ছে। গত দুই মাসের মধ্যে মঙ্গলবার জেলায় তাপমাত্রা কমে নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রির ঘরে। কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশাও। ফলে শীতে জবুথবু অবস্থা এই জনপদের। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, এখন প্রতিদিন কুয়াশা পড়ছে। সামনে কুয়াশা ও ঠান্ডা আরও বাড়বে।


