ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় জামায়াত নেতার নির্বাচনি প্রচার ঘিরে এ সংঘর্ষ হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম আব্দুন নুর শনিবার রাতে জানান, দুই পক্ষ থেকেই দুপুরের দিকে পাল্টাপাল্টি মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়৷

থানা সূত্রে জানা যায়, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে  বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে প্রধান আসামি ও ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপির নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে এ মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে। আসামিদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে৷ সংঘর্ষের সময় অস্ত্রহাতে যে যুবকের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এরপর জানা যাবে তিনি আসলে কোন দলের।’

সংঘর্ষ
সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি। ছবি: টাইমস

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর একটি নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন। এরপর থেকে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এলাকা থেকে সটকে পড়েছেন।

শনিবার বিকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, জামায়তের প্রার্থীরা গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করায় জনগণ তার প্রতিবাদ করেছে। তারা (জামায়াত) চর গড়গড়ি গ্রামে গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে জামায়াত নেতারা স্থানীয় বাসিন্দা এবং এলাকার বিএনপি সমর্থকদের উপর গুলি চালায়।’

হাবিব আরও বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা ব্যক্তি স্থানীয় জামায়াত কর্মী তুষার। তিনি জামায়াতের প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।’

একইদিন বিকালে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামী। এসময় তাদের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তারা।

জামায়াত নেতাদের দাবি, বিএনপির হামলায় জামায়াতের ৫০ জনেরও বেশি সদস্য আহত হয়েছেন এবং শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল তাকে আমি চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ। বিএনপির নেতারা আমাদের ওপর হামলা করে আমাদের ওপরই দোষ চাপাচ্ছেন।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad