রমজান মাসের দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পর থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠপ্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে চাইনি আমরা। এজন্য শিক্ষকদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিখন-ঘাটতি পূরণে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মূলত, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে এবার রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি থাকার কথা ছিল। তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ছুটি শুরু হবে। ফলে শুক্রবার-শনিবারসহ টানা ছুটি গিয়ে দাঁড়ায় ৩৮ দিনে। ফলে ছুটির তালিকার যুক্ত হয় অতিরিক্ত আরও ১৭ দিন। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবারের স্বাভাবিক ছুটি বাদ দিলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের থেকে ক্লাস-কার্যক্রমের ঘাটতি পড়ে ১২ দিনের।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার পুরো রমজান মাসে স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বছরের শুরুতে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণীয় হওয়ায় সেখানে ছুটি আরও কম রাখা হয়েছিল। সেই অনুসারেই ক্লাস কার্যক্রম এবং পাঠপরিকল্পনা তৈরি করা ছিল।
পরবর্তীতে পুরো রমজান মাস ছুটি দেওয়ার ফলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১২ দিনের ক্লাস কার্যক্রম কম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই লার্নিং গ্যাপটা পূরণ করতে শিক্ষকরা ১০টি শনিবার স্কুল খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুসারেই ২৯ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পর থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবারের স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের ছুটি বর্ধিত করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের যে শিখনঘাটতি হয়েছে, অতিরিক্ত এফোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে এখন তা পূরণ করতে চেয়েছেন শিক্ষকরা। ফলে স্কুল খোলার পর শনিবার অতিরিক্ত এফোর্ট দিয়ে রমজানের মধ্যে মিস হওয়া ক্লাসগুলো নেওয়া হবে।’
ইতোমধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠির মাধ্যমে সবাই বিষয়টি জেনেছেন এবং স্কুল খোলার পর শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।


