চট্টগ্রাম নগরে দুই এলাকায় সরকারি খাসজমি ও মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলাদা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে খুলশী থানার লেকভ্যালি আবাসিক এলাকায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নন্দনকানন এলাকায় লোকনাথ মন্দির ও সংলগ্ন জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসকন ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও চারজন।
দুই ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরের খুলশী থানাধীন লেকভ্যালি আবাসিক এলাকায় একটি সরকারি খাসজমির সীমানা প্রাচীর ভাঙা এবং ওই জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা গ্রুপ এবং রাজিব গ্রুপের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফয়’স লেক ও পার্শ্ববর্তী জায়গার বিরোধ নিয়ে আকবরশাহ ও খুলশী থানার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে অন্তত আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে।
বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার ভোর ৪টার দিকে নন্দনকানন এলাকায় লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসকন ও স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টার দিকে ইসকনের একদল অনুসারী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মন্দির এলাকার একটি কক্ষ ও কয়েকটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘লোকনাথ মন্দির ও এর আশপাশের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ইসকন ধীরে ধীরে মন্দিরসংলগ্ন খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে ইসকনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, মন্দিরটি স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। বাইরের কোনো সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ তারা মেনে নেবেন না বলেও কঠোর বার্তা দেন।
নন্দনকাননের ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় সনাতনীদের উপর ইসকনের হামলার প্রতিবাদে সাধারণ সনাতনীদের নন্দনকাননের ১ নম্বর গলির লোকনাথ মন্দিরে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


