ঈদের আগের দিন ঢাকার পশুর হাটে ধস, লোকসানে গরু বিক্রি

ঈদের আগের দিন ঢাকার পশুর হাটে ধস, লোকসানে গরু বিক্রি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঈদুল আজহার আগের দিন রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য ক্রেতাদের। বাজারে পশুর প্রচুর সরবরাহ থাকায় শেষ মুহূর্তে বাকি থাকা গরু বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার ঢাকার বেশ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বড় ও ছোট আকারের প্রচুর গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে, তবে মাঝারি গরুর সংখ্যা কম।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আগের দিনের চেয়ে দাম অনেক কমে গেছে। হাটে কয়েক দিন ধরে অপেক্ষা করার পর গরুকে আবার বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে লোকসান দিয়ে হলেও দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

হাজারীবাগ পশুর হাটের হাসিল কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রেতারা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম দামে পশু কিনছেন। ওই হাটের একজন স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন বলেন, ‘যে আকারের গরু মঙ্গলবার প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ১ লাখ ৭০ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজকের দিনটি পুরোপুরি ক্রেতাদের।’

নেত্রকোনা থেকে সাতটি গরু নিয়ে আসা নিজাম হোসেন বলেন, ‘যে গরু ১ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করেছিলাম, সেটির দাম এখন মাত্র ৭০ হাজার টাকা উঠছে।’

পাবনার ব্যবসায়ী নায়েব আলী শনিবার থেকে হাটে আছেন। তার শেষ বড় গরুটি বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘গরুটি ফেরত নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। কেউ মোটামুটি যৌক্তিক দাম বললে লোকসানে ছেড়ে দেব, কারণ অন্যগুলো থেকে লাভ করেছি।’

আরও পড়ুন

মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী সালমান জানান, তার পাঁচটি গরুর মধ্যে তিনটি বিক্রি হয়নি। ভালো দামের আশায় ঢাকায় আনলেও এখন পরিবহন ও যাতায়াত খরচ মিটিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি।

তবে কিছু ক্রেতা কম দামে গরু কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাদমান নামের এক ক্রেতা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পছন্দের গরু কিনতে পেরে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েক দিন ধরে দাম ধরে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে দাম কমায় ভালো হলো।’

অনেক ব্যবসায়ী এই মন্দার জন্য গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী, কমলাপুর ও পোস্তগোলা পশুর হাটেও। বড় আকারের গরুগুলো বেশিরভাগই অবিক্রীত রয়ে গেছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শাকিব আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বড় গরুর দাম ছাড়তে চান না। তাই হাটে দরদাম করার চেয়ে লোকাল অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে জ্যান্ত ওজনের (লাইভ-ওয়েট) গরু কেনাটা এখন ভালো বিকল্প।’

ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকার হাটে শেষ দিনে গরুর দামের এই ধস গত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। গত দুই বছর ধরে বাজারে বড় গরুর চাহিদা কমছে। আগে বাজারে ২ লাখ টাকার ওপরের গরুর চাহিদা ৩০ শতাংশ থাকলেও এখন তা কমে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দেশে চাহিদার চেয়ে পশুর সরবরাহ অনেক বেশি। ১ কোটি ২৩ লাখ পশুর সরবরাহের বিপরীতে চাহিদা মাত্র ১ কোটি ১ লাখ, অর্থাৎ বাজারে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad