শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বিদায়ের আবেগে। ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর পূজামণ্ডপগুলোতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে মহানবমী।
দেবী দুর্গার আরাধনায় দিনটি কাটবে উৎসবের আমেজে, তবে সেই আনন্দের মধ্যেই বাজতে শুরু করেছে বিদায়ের ঘণ্টা। আর এক দিন পরই বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মহিষাসুরসহ অশুভ শক্তির বিনাশ করে দেবী দুর্গা পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবমীতে দেবীর সেই বিজয় ও শক্তির আরাধনার পাশাপাশি ভক্তদের মনে তৈরি হয় তাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। কারণ, দশমীতে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী।
মহানবমীর অন্যতম আকর্ষণ সন্ধ্যার মহাআরতি। এদিন পূজার আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে নবমী হোম ও বলিদানের রীতি। অনেক পূজামণ্ডপে দেবীর চরণে নিবেদন করা হবে ১০৮টি পদ্ম। পূজা শেষে থাকবে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে মণ্ডপে আসা ভক্তদের কাছে দিনটি তাই শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার নয়, একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের স্মৃতিও ধরে রাখার।
হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে পালিত সন্ধিপূজায় দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিটজুড়ে চলে এই বিশেষ পূজা। এ সময় ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালানো এবং ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদনের রীতি রয়েছে।
শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দুর্গোৎসব। আজ মহানবমীর পর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ আয়োজন। তাই উৎসবের শেষ প্রান্তে এসে ভক্তদের প্রার্থনার পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে মিশে থাকবে আনন্দ, স্মৃতি আর বিদায়ের বিষাদ।


