নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। কমিশনের মধ্যে যারা যে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা নিজেদের দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ফলে এই কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
শনিবার দুপুরে বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপি আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কোন নীতিমালায় এনসিপিকে “শাপলা কলি” প্রতীক দেওয়া হয়েছে, আর কোন নীতিমালায় “শাপলা” প্রতীক দেওয়া হয়নি-এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো এখন সংস্কারের পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত। যারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারা বাস্তব পরিবর্তন থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। কিন্তু যারা সংস্কারের পক্ষে রয়েছেন, তারাই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা সেই সংস্কারপন্থী শক্তির সঙ্গেই জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’
নির্বাচন কমিশনকে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দাবি করেছিলাম, যাতে কমিশনের সক্ষমতা যাচাই করা যায়। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকেই সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়। শেখ হাসিনার আমলে জবাবদিহি ছাড়া নির্বাচন কমিশন চলছে। ৫ আগস্টের পর থেকে জবাবদিহি রাষ্ট্র চলবে।’
ইসলামী রাজনৈতিক দল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী যে একটা দল–এটা আমার জানা নেই।’
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় কমিটির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সংগঠনকে আরও বেগবান করা এবং তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী করা। বরগুনা জেলা এনসিপি এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সারা দেশে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় জেলায় এই সমন্বয় সভা। আশা করছি, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, বরিশালের বিভাগীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।


