নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরও ৫৮ জন প্রার্থী। রোববার আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে মোট ৭১টি আবেদনের নিষ্পত্তি করে ইসি। এর মধ্যে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়, নামঞ্জুর হয় ৭টি এবং ৬টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
শুনানির প্রথম দুই দিন মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০৯ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা বৈধ
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া–২ ও ঢাকা–১৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ঢাকা–১৮ আসনে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করেছিলেন। ইসিতে আপিলের পর শুনানির মাধ্যমে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রিটার্নিং অফিসার মবের চাপের মুখে বিচলিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তা না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না। তিনি আরও বলেন, তাকে আটকাতে যে ধরনের ‘মবক্রেসি‘ করা হয়েছে তা অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তবে নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা
গতকাল প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ৫৮ জনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন: চাঁদপুর–২ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন, যশোর–২ আসনে মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং জামালপুর–৩ আসনে মো. মুজিবুর রহমান আজাদী।
এ ছাড়া গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (মাগুরা–১) তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে খেলাফত মজলিসের ৮ জন, জাতীয় পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া তালিকায় বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
দুই দিনের পরিসংখ্যান
এর আগে গত শনিবার আপিল শুনানির প্রথম দিনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ ৫১ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। আপিল শুনানির দুই দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ১০৯ জন। রিটার্নিং অফিসারের বাতিল বা গ্রহণ করা মনোনয়নের বিরুদ্ধে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে।


