লেবানন যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি ‘স্থায়ী শান্তির পথ’ খুলে দেবে বলেও আশা করেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি সাহসী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
‘পাকিস্তান লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে’ উল্লেখ করে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোতে ইসলামাবাদ পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ বর্তমানে আঞ্চলিক সফরে রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার চেষ্টায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তিনি কাতারে পৌঁছান। সেখানে দেশটির নেতাদের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন। এই প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
কাতার সফরের আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং এরপর তার তুরস্কে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে ২ বছর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে বিভিন্ন দেশের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরতে দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল সুইজারল্যান্ডের পত্রিকা নয়্যু জ্যুর্খার সাইটুংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অঞ্চলভেদে ও বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা অনুযায়ী জ্বালানি পুনরুদ্ধারের সময় ভিন্ন হবে। কিছু দেশে সময় আরও বেশি লাগতে পারে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ইরাকের পূর্ণমাত্রায় জ্বালানি উৎপাদনে ফিরতে সৌদি আরবের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগবে। সৌদি আরব তুলনামূলক উন্নত। তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ইরাকের চেয়ে বেশি।’
ফাতিহ বিরোল আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উৎপাদন সক্ষমতা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবানন যুদ্ধবিরতিতে আপত্তি ইসরায়েলি বিরোধী নেতার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এটা প্রথমবার নয়, এই সরকারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবতার চাপে বার বার মাটিতে ভেঙে পড়ছে।’
‘লেবাননে সংঘাতের একটাই সমাপ্তি হতে পারে- উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোর ওপর থাকা হুমকি (হিজুবুল্লাহ) স্থায়ীভাবে সরিয়ে ফেলা।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা করে ইয়াইর লাপিদ বলেন, ‘এই সরকারের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আমরাই বরং পরবর্তী সরকারে এসে এটি করব।’
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমি পিগট জানান, টেলিফোনে আলাপকালে উভয় নেতা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তারা একমত হয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির নিরাপত্তা বজায় রাখা অপরিহার্য।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে মিত্র দেশ দুটি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা লেবাননের প্রেসিডেন্টের জন্য ‘বড় ঝুঁকি’: বিশ্লেষক
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসা একটি ‘সাহসী পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খৌরি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আউন কিছুটা ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং প্রচলিত সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে লেবাননের মানুষ বাস্তববাদী, তাই তারা শেষ পর্যন্ত ফলাফল দেখেই এর বিচার করবে।
খৌরি উল্লেখ করেন, লেবাননে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি উদযাপন করা হলেও সামনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো হবে অত্যন্ত জটিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার (ট্রাম্প) কূটনীতি সম্পর্কে ধারণা খুবই সীমিত, যা এই আলোচনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলবে।
খৌরি মতে, লেবাননের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি সীমান্ত নির্ধারণ, বন্দি বিনিময় এবং ভূমি দখলের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো এই আলোচনায় উঠে আসবে।
খৌরি মনে করেন, ইসরায়েল যদি লেবাননের জনগণকে সমঅধিকার দিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
সূত্র: আল জাজিরা


