ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জেরে বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরটি পিছিয়ে আগামী মে মাসের শুরুতে পুনঃনির্ধারণ করতে বেইজিংয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, মার্চের শেষে নির্ধারিত চীন সফর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটি যুদ্ধের মধ্যে আছি। আমার এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতির কারণে আপাতত বিদেশ সফরে যাওয়া সম্ভব নয়।’
এই সফরে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা ছিল।
এর আগে রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, চীন যদি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ না পাঠায়, তাহলে তিনি নির্ধারিত বেইজিং সফরে নাও যেতে পারেন।
পারস্য উপসাগরের ওই পথেই রয়েছে ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী, যা গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে সরু এই সমুদ্রপথটি প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান।
অবশ্য চীনসহ ব্রিকস জোটের দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে ইরান সরকার চীনা জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন এখনও ইরানের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার জন্য চীনের তেমন কোনো আগ্রহ নেই বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বরং ইরান যুদ্ধের জেরে চীন নিজের স্বার্থ এগিয়ে রাখলে বরং যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজেই এ বছর এপ্রিলের শুরুতে চীন সফরের কথা নিশ্চিত করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন জানিয়েছিলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মাদক ফেন্টানিলের ভয়াবহতা, তাইওয়ান ইস্যুসহ নানা বিষয়ে জিনপিংয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
ওই ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেহেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী!’ এছাড়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও আগামী বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুধু তাই নয়, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন দুই নেতা। এতে ওয়াশিংটন-বেইজিং শুল্ক উত্তেজনাসহ পারস্পারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে সম্মত হন।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে চীনের বিভিন্ন পণ্যে শতভাগ শুল্ক কার্যকরের হুমকি দিলেও জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প কিছু পণ্যে আরোপিত ২০% শুল্ক কমিয়ে ১০% করার ঘোষণা দেন।
শুল্ক কমানোর পর যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকিও তুলে নেয়। একই সময়ে চীনও তাদের নতুন বিরল খনিজ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।
মাদক ফেন্টানিল রপ্তানি ঠেকাতে চীনা সরকার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে এখনও চীনা পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ৫০% শুল্ক বহাল রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চীনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। এটি দুই দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যই ভালো।


