কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বের ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন আরহাম ইসলাম। এবার তিনি ডাক পেয়েছেন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ স্কোয়াডে। চলতি মাসেই জাপানে তিন জাতির সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজে জাপানের অনূর্ধ্ব-২০ ও একটি ক্লাব, অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ এবং স্পেনের অনূর্ধ্ব-২০ দল খেলবে।
আরহামই প্রথম, যিনি বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এখন ভিন্ন দেশের বয়সভিত্তিক দলে জায়গা পেলেন।
অস্ট্রেলিয়াতেই জন্মগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরহাম ইসলাম। পরে পেয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব। তিনি এখন দুই দেশেরই দ্বৈত নাগরিক। তবে ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একজন দ্বৈত নাগরিক একই সাথে দুই দেশের হয়ে খেলতে পারেন না। যে কোনো একটি দেশকে বেছে নিতে হয়।
সেই নিয়মেই তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে বাংলাদেশের হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে খেলেছেন। বাংলাদেশের ফুটবলও জামাল ভূঁইয়াদের মত আরও একজন সম্ভাবনাময় প্রবাসী ফুটবলার পেয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন আরহাম। ফুটবলে তার পারফর্মেন্স অস্ট্রেলিয় ফুটবল ফেডারেশনের নজড় এড়ায়নি। তাই অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডাক পেয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি আরহাম। ফিফার নিয়ম-কানুন মেনেই এই বাংলাদেশি স্ট্রাইকার হয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ-২০ জাতীয় দলের ফুটবলার। সম্প্রতি একটি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়েও খেলেছেন।
ফেডারেশন বলছে যোগাযোগ আছে
সাইফুল বারি টিটুর কোচিং-এর অধীনে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলেছেন আরহাম। কম্বোডিয়ায় ভালো খেলা সত্ত্বেও গত এক বছরে আরহামকে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য ডাকা হয়নি।
টিটু এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। তিনি জানান, বাফুফে আরহাম ও তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। তবে আরহামকে আবার বাংলাদেশের দলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।
আরহামের অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলে সুযোগ পাওয়া তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, বাফুফে তাকে বাংলাদেশের ফুটবলে ফিরিয়ে আনতে সফল হয় কিনা।
এমিলির আক্ষেপ
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি এই খবরটিকে মিশ্র অনুভূতির সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি ছেলে অস্ট্রেলিয়ার জুনিয়র দলে খেলবে, এটা দারুণ গর্বের বিষয়। তার যে মান, তাতে অনূর্ধ্ব-২০, তারপর অনূর্ধ্ব-২৩ পেরিয়ে একদিন সে অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র দলেও পৌঁছাতে পারে। তবে হতাশাজনক বিষয় হলো, সে বাংলাদেশের হয়ে শুরু করলেও বাংলাদেশ হয়তো তাকে আর পাবে না।


