ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। রোববার দেশটির সরকারবিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে দাবি করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
লন্ডনভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেজেশকিয়ান চিঠিতে উল্লেখ করেছেন- ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কার্যত সরকারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তারা প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখছে।
অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান সৈয়দ মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের সেবার দায়িত্ব থেকে পিছু হটবেন না, ঠিক যেমন ইরানের জনগণ ঐক্য ও প্রতিরোধের পথ থেকে সরে আসবে না।’
পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান সরকারও।
এর আগে ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সরকার পরিচালনা করতে পারছেন না এবং নিজের সাংবিধানিক দায়িত্বও পালন করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি পদত্যাগের অনুমতি চেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, পেজেশকিয়ান ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধানের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও দেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই প্রেসিডেন্ট ও রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দেয় বলে দাবি করে সূত্রগুলো।
এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একটি গোপন স্থানে লুকিয়ে আছেন। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই সীমিত এবং কেবল বার্তাবাহকদের জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও খামেনির অবস্থান জানেন না। তারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেও পারছেন না।


