যুক্তরাষ্ট্রের করা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি একটি অবাস্তব ‘স্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি স্বপ্ন যা নিয়ে তাদের কবরে যেতে হবে।’
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত রেকর্ড করা এক ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘এসব হামলা ভুল বোঝাবুঝি ও বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইরানি সেনাদের সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে হয়েছে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর হামলা করা হবে না-যদি না ওই দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ আসে।’ সেইসঙ্গে তিনি কূটনৈতিক উপায়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট সমাধানেরও আহ্বান জানান।
যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
এদিকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে এরইমধ্যে ইসরায়েলের জন্য প্রায় ১৫ কোটি ডলারের জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এ সময় ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি কোনো শান্তি আলোচনা বা চুক্তি করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় বোমা হামলার অভিযান এখনো শুরুই হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, তারা আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও ক্রমাগত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। শনিবার ভোরে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজতে শুরু করে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের শায়বা তেলক্ষেত্রের দিকে আসা ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের পর পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়মুখক
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সাময়িকভাবে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। পরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও কিছু সময় পর আবার তা চালু করা হয়।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে
ইরান সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত এক হাজার ৩০০ মানুষ, লেবাননে দুই শতাধিক এবং ইসরায়েলে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়জন সেনা ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন।


