যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অতিক্রম করার চেষ্টা করা একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ দখল করেছে মার্কিন বাহিনী।
এভাবে জাহাজ আটকানোর ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবেই দেখছে তেহরান। একই সঙ্গে এই ঘটনার ‘শিগগিরই’ পাল্টা জবাবের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘তুসকা’ নামের জাহাজটিকে ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার থামার নির্দেশ দেয়, কিন্তু জাহাজের ‘ক্রু সদস্যরা সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।’
তিনি আরও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী ‘ইঞ্জিন রুমে গর্ত করে জাহাজটিকে সেখানেই থামিয়ে দেয়’ এবং মার্কিন মেরিন সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ভেতরে কী আছে তা পরীক্ষা করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল তুসকা জাহাজ, ছয় ঘণ্টা ধরে তাকে দেওয়া একাধিক সতর্কতা সত্ত্বেও তারা ইঞ্জিন রুম খালি করার নির্দেশ উপেক্ষা করে।
এদিকে ইরানের আধা–সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে দেশটির সামরিক সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জাহাজ আটক হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সমুদ্র জলদস্যুতা করে যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তারা জাহাজে গুলি করেছে এবং বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মেরিন সেনাকে জাহাজের ডেকে নামিয়ে নেভিগেশন (দিকনির্দেশনা) ব্যবস্থা বিকল করে দিয়েছে।’
সতর্ক করে ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দেবে এবং চরম প্রতিশোধ নেবে।’
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
এর আগে রোববার ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না—যা ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যখন যেতে পারছি না, তখন অন্যদের জন্যও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আলজাজিরা


