যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সম্পর্কে রাশিয়া ইরানকে গোপনে তথ্য সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া এমন কিছু তথ্য ইরানকে দিয়েছে যা ব্যবহার করে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান ও অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, পেন্টাগনের মতে- এসব তথ্য ইরান কীভাবে ব্যবহার করবে সে বিষয়েও রাশিয়া সরাসরি তদারকি করছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ওপর এসব তথ্য কোনো প্রভাব ফেলছে না। এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের তথ্য নজরে রাখছে এবং যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো সামরিক সহায়তা চায়নি। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েই ইরানের নেতাদের সঙ্গে তাদের সংলাপ চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
গত কয়েক বছরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের চেয়েও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের অভিযোগও তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন দাবি করেছিল, ইরান রাশিয়াকে প্রাণঘাতী ও আধুনিক ড্রোন দিয়েছে এবং ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনেও সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের সঙ্গে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেনের শহরগুলো প্রায় প্রতি রাতেই ইরানি ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, তাই এসব হামলা প্রতিরোধে তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবারহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার কমে যাচ্ছে কি না-এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


