ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে এখনো অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোমপাস ডটকমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে জাকার্তা সংলগ্ন বেকাসি শহরের একটি রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনের সঙ্গে একটি দূরপাল্লার ট্রেনের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন কমিউটার লাইন পরিচালনাকারী সংস্থার মুখপাত্র কারিনা আমান্দা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেল কোম্পানি কেএআই মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্তত ৮৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের প্রধান মোহাম্মদ শাফিই জানান, দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোমপাস ডটকমকে তিনি বলেন, ‘ট্রেনের বগিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং কাজের জায়গা সীমিত হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ধীরে ও সতর্কভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ট্রেন কাটতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে সংঘর্ষ হওয়া দুটি ট্রেন আলাদা করেন এবং পরে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার (বিশেষ যন্ত্র) ব্যবহার করে বগির ধাতব কাঠামো কেটে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন।

এর আগে কেএআই-এর মুখপাত্র আন্নে পুরবা জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ৫ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। তবে মঙ্গলবার সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।
কেএআই-এর আরেক মুখপাত্র ফ্রানোতো উইবোও জানান, একটি ট্যাক্সি রেললাইন পাড় হওয়ার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কমিউটার ট্রেনটিকে আঘাত করে। এতে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনটি লাইনেই থেমে যায়। এরপর সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় দূরপাল্লার ট্রেনটি।
কোমপাস ডটকম জানায়, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি হলো জাকার্তা থেকে চিকরাংগামী কমিউটার ট্রেন এবং আরগো ব্রোমো আংগ্রেক নামের দূরপাল্লার ট্রেন। এই ট্রেনটি জাকার্তা ও সুরাবায়ার মধ্যে চলাচলকারী ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম প্রধান দ্রুতগতির ট্রেন হিসেবে পরিচিত।
ইন্দোনেশিয়ার রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১০ সালে জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেন মধ্য জাভার একটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লেভেল ক্রসিংয়ে একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে ১৮ জন নিহত হয়।


