একটি দলের কার্ড বিতরণের ওয়াদা ‘আচরণবিধির লঙ্ঘন’: জামায়াত

একটি দলের কার্ড বিতরণের ওয়াদা ‘আচরণবিধির লঙ্ঘন’: জামায়াত
Advertisement
Advertisement

একটি বড় দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণের ওয়াদা করা হচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, এটি আচরণবিধির সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে ইসিকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের আজকের মেইন কনসার্ন ছিল আচরণবিধি। সিডিউল ঘোষণার পরপরই আমরা জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় এবং আচরণবিধির মোতাবেক সমস্ত প্রচার-প্রকাশনা সামগ্রীগুলো নিজেরাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের লঙ্ঘন হচ্ছে। আজকে বিষয়টি ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, উনাদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করা দরকার। বিভিন্ন জায়গাতে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি ব্যানার লাগানো হয়েছে, এগুলো উনাদের পক্ষ থেকে যাতে অপসারণ হয় এবং একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য এই সমস্ত বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উনারা এগুলো নোট নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড় একটি দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়া হচ্ছে, আমরা সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমেই দেখেছি। উনারা বিভিন্ন ধরনের ওয়াদা করছেন, আমরা এত লক্ষ-কোটি কার্ড দেব, প্রতিটি কার্ডে এত হাজার-লাখ টাকা পাবেন।’

‘এই ধরনের অনেকগুলো ওয়াদা করছেন, যেটা আচরণবিধির সুনির্দিষ্ট খেলাফ আমরা বলেছি। এ ব্যাপারে উনাদেরকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা বলেছি। আমরা তাদেরকে বলেছি যে আপনারা এগুলো আল্লাহর ওয়াস্তে দেখেন, খোঁজখবর রাখেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ যেখানেই যতটুকু আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে এনেছি। বলেছি, তাৎক্ষণিকভাবে উনারা যাতে ব্যবস্থা নেন,’ যোগ করেন তিনি।

একটা বড় দল কার্ড বিতরণ করছে বলেছেন, সেটি কোন দল–এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি।’

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা না হলে সন্ত্রাসীরা এবং যাদের উদ্দেশ্য অসৎ থাকবে তারা নির্বাচনকে বাঞ্চাল করার জন্য একটা বড় ধরনের সুযোগ পেয়ে যাবে। সিসি ক্যামেরা থাকলে সেই সুযোগটা থাকবে না। উনারা বলেছেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বলেছি, যাই করেন, এটা সুনিশ্চিত হতে হবে। জনগণ যাতে নির্বাচনে মানসিক প্রশান্তিসহ আসে, ভয়শূন্য পরিবেশে যাতে কেন্দ্রে আসে।’

তিনি বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা আমরা বলেছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলেছি। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের কথা বলেছি। অতি সম্প্রতি ঢাকা-৮-এর একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী, যিনি খুবই জনপ্রিয় একজন যুবনেতা, নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে ছিলেন। হত্যাটা খুবই নির্মমভাবে হয়েছে, যেটি পুরো দেশেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে একটি মানসিক ট্রমা তৈরি করেছে।

এ ছাড়া, খুলনায় একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বলেছি, এর জন্য উনাদের গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা। ইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে, অন্যান্য বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। বলেছেন, আজকেও তাদের একটি মিটিং হয়েছে। উনারা আমাদেরকে বলেছেন যে আমরা এই সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃবৃন্দ যারা নির্বাচনে ভূমিকা রাখছেন, আমাদের আমিরে জামায়াত, সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ব্যাপক সফর করবেন। বিভিন্ন জায়গাতে তাদেরকে যেতে হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, কেউ অনেক ফ্যাসিলিটি পাবেন, ভিভিআইপি ফ্যাসিলিটি পাবেন, আবার কেউ পাবেন না—এটা তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। উনারা বলেছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখেন, তাদের সঙ্গে তারা কথা বলবেন।’

আগামীকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসছেন, একটি সংবর্ধনা সমাবেশ করার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবগুলো বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এটা বলেছি যে আচরণবিধি মানতে আমরা সচেতন আছি এবং সচেতন থাকব। কোনো দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্বটা উনাদের। আমরা এই বিষয়ে উনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শরিফ উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পরে জনমনে আতঙ্ক-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যে কোনো একজন সচেতন মানুষের মধ্যে কিছু বেদনা-কষ্ট আসবেই। তিনি তো আতঙ্কের মধ্যে থাকবেন। যেখানে আমাদের ৩০০ প্রার্থী দিনরাত কাজ করছেন ময়দানে।

‘আমরা এই সমস্ত বিষয়গুলো বলেছি যে, এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে আছে। আমাদের পক্ষ থেকেও আছে। আপনারা এ সমস্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেন,’ যোগ করেন তিনি।

আগামী ৩ জানুয়ারি আপনাদের সমাবেশ রয়েছে, সেখানে আচরণবিধির ব্যাপারে আপনারা সতর্ক আছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা জেলার রিটার্নিং অফিসারকে আমরা এটা আশ্বস্ত করেছি। ইসিকে আশ্বস্ত করেছি, আমাদের জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করার জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad