বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, যেদিন তারেক রহমান দেশে সেদিনই বিএনপির নির্বাচনের অর্ধেক প্রচার হয়ে যাবে।
রোববার বিকালে ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরবেন। তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরবেন সেদিন অবিস্মরণীয় ইতিহাস তৈরি হবে। সেদিনই বিএনপির নির্বাচনের অর্ধেক প্রচারণা হয়ে যাবে।’
তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবে দেশে ফেরবেন সুনিদির্ষ্টভাবে কোনো দিনক্ষন বলেননি সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এই সময়ে মিলনায়তনে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি দিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের খবরকে স্বাগত জানান। বেশ কিছুক্ষণ তারা বিভিন্ন ধরনের শ্লোগানও দেন।
২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলে ৭ মার্চ দুর্নীতিবিরোধী এক অভিযানে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরের বছর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মুক্তি দিকে শুরু করে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হন তারেক। এক সপ্তাহ পর ১১ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। সেই থেকে তিনি লন্ডনে রয়েছেন।
গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল দেশে ফিরবেন তারেক, দলের শীর্ষ নেতারাও বারবার বলেছেন শিগগিরিই দেশে ফিরবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তবে এখন পর্যন্ত দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি স্বয়ং তারেক রহমান।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান মেধা, যোগ্যতা, শ্রম ও নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগ্রামে আমরা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি এবং তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখেছি। তার নেতৃত্বে এই জাতি অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিগগিরই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার মাধ্যমে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোজার এক সপ্তাহে আগে অথবা তারও আগে নির্বাচন হতে পারে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ পথে যারা কাঁটা বিছানোর চেষ্টা করছে, বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের সবার প্রতি নসিহত, দেশ এখন নির্বাচনী আবহে আছে, সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশকে অবশ্যই সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত করতে হবে। কোনো অতিরিক্ত সাংবিধানিক বা বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োগ করা উচিত নয়।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, যে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা এবং প্রতিষ্ঠা লালনের মধ্য দিয়ে অপসংস্কৃতি অপরাজনীতি এবং ফ্যাসিস্ট রাজনীতিকে বিলুপ্ত করতে হবে। কারণ আমরা যদি ভালো আদর্শিক রাজনীতি উপস্থাপন করতে পারি তাহলে পরেই আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হবে। সর্বক্ষেত্রেই আপনারা দেখবেন বিকল্প যদি ভালো থাকে অতীতের সমস্ত ফ্যাসিস্ট অগণতান্ত্রিক শক্তির কোন রাজনীতি বাংলাদেশে আর চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠা পাবে না।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকের এই অধ্যাদেশটি (আরপিও) মধ্যে আমার মনে হয়েছে আরপিও‘র ২১ ধারার সাব সেকশন ওয়ানে একটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে প্রতীক নিয়ে। যেকোনো রাজনৈতিক দল দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দল যদি জোট করে নির্বাচনে সেই সময় সেই দলের প্রতীক তাকে নিতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। তাহলে ক্ষুদ্র দলগুলো, ছোট ছোট দলগুলো জোট করবে কেন? তারা তো জোট করবে একটা বৃহৎ দলের সঙ্গে। যাতে তারা জিততে পারে কয়েকটি আসন। যদি তাকে তার মার্কা নিয়ে ইলেকশন করতে হয় তাহলে তারা জোট করতে চাইবে না।’
এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো পর্যায়েই আলোচনা হয়নি জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। অন্তত আমাদের সঙ্গে হয়নি। এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি। এরকম অমূল সংস্কারগুলো যদি আমরা আইনে নিয়ে আসি কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়াই, তাহলে পরে পরিস্থিতি জটিল হবে। আগে আরপিওতে যে বিধান ছিল সেই দল অথবা সেই জোটভুক্ত কোনো দলের প্রতীক বাছাই করতে পারবে, নিতে পারবে। এক্ষেত্রে তার স্বাধীনতা আছে এবং সেটাই হওয়া উচিত।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সেজন্য বলব, যারা নির্বাচন সংস্কার কমিশনের কাজ করেছেন, জাতীয় ঐক্য কমিশনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি, এমন কোনো বিধি-বিধান অধ্যাদেশের মাধ্যমে আপনারা জারি করবেন না পরবর্তীতে সেটা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।’


