যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের লিঙ্গুইস্টিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডেভিড এ. পিটারসন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ-এ জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। তিনি সোমবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস নেবেন।
ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধ্যাপক পিটারসন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাষাতত্ত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ ও ধারণা এবং সিলেবাস সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন।
তিনি ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা সংরক্ষণ ও ভাষাতত্ত্ব গবেষণায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তিন দিনব্যাপী একটি কর্মশালা করবেন।
কর্মশালার অংশ হিসেবে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ, ভাষা সম্প্রদায়ের কর্মী এবং সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এ আলোচনায় তারা বাংলাদেশের ভাষাগত বৈচিত্র সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত ও নীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিপন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।
ইউল্যাবে তার সংক্ষিপ্ত সময় শেষ হবে একটি মাস্টারক্লাস দিয়ে। যার বিষয় হবে কীভাবে পদ্ধতিগত উপায়ে ভাষাতত্ত্ব গবেষণা করা যায়। এ ক্লাস ইংরেজি বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অধ্যাপক পিটারসন একজন ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি মূলত ল্যাঙ্গুয়েজ ডকুমেন্টেশন এবং লিঙ্গুইস্টিক টাইপোলজি নিয়ে গবেষণা করেন। বিগত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ, ভারত এবং মিয়ানমারজুড়ে বিপন্ন ভাষাসমূহের গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে রেঙ্গমিটচা, খুমি এবং ম্রো ভাষার ওপর তার গবেষণার কাজ রয়েছে।
তিনি ইউসি বার্কলি থেকে ভাষাতত্ত্বে পিএইচডি অর্জন করেছেন। বর্তমানে এই অঞ্চলের বিপন্ন ভাষাগুলোর বোঝাপড়া ও সংরক্ষণে তার অবদান রয়েছে বলে স্বীকৃত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২২ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যবর্তী সময়টিকে আদিবাসী ভাষার আন্তর্জাতিক দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভাষাতত্ত্ব গবেষণার উন্নয়নে এবং ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে নিয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে ইউল্যাবের নেওয়া এই ফেলোশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


